‘বোতলের ক্যাপ ছোড়া’ নিয়ে কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৩ পিএম | ২২ মার্চ, ২০২৬
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয়র বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
সোমবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কয়া ইউনিয়নের রাধাগ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)।
এদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা গ্রামেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে গ্রামের রতন শেখ কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হলে রতন তাকে মারধর করেন। পরে কাসেট বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে ছেলে মামুনকে জানালে, মামুন এসে কারণ জানতে চাইলে তাকেও মারধর করা হয়।
এ সময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের ছেলে আলম শেখ রতনকে একটি চড় মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
তবে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন নিয়ে জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখ গ্রুপের অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষিজমিতে অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করেন। অনেকের মাথায় হেলমেট এবং হাতে ঢাল, সরকি, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের হাতে, বুকে ও পায়ে ছড়রা গুলির আঘাত রয়েছে।
আহত জনি শেখ বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা ১০-১২ জন মসজিদে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
আহত মো. রাব্বি বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়ারুল তার লোকজন নিয়ে গুলি চালিয়েছে। সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে গুলি করছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার শরীরে অন্তত ২২ টি গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
আলম শেখ মুঠোফোনে জানান, সকালে বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সামান্য মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের সাতজনকে গুলিবিদ্ধ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গুলির ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসকে/টিকে