নির্বাচনে যারা আমার জন্য কাজ করেছেন তারাই আমার বড় আত্মীয় : নুর
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৬ পিএম | ২২ মার্চ, ২০২৬
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘মানুষের কত ধরনের রূপ তা নির্বাচনের সময় দেখেছি। নির্বাচনে যারা আমার জন্য কাজ করেছেন তারাই আমার বড় আত্মীয়। আমি নিজে অন্যায়-অবিচার করি না। আর আমার সঙ্গে যদি কেউ থাকেন তারাও করবেন না।
কেউ যদি অসহায় থাকেন তাদেরকে চাকরিবাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য দিয়ে আমরা সহায়তা করব। কিন্তু ক্ষুত-কুঁড়ার দিকে চোখ দেওয়া যাবে না।
ইউনিয়ন পরিষদে চাল দেয় ১০-২০ কেজি। এই চাল দিয়ে কী হয়? এই ছোটখাটো কাজের মাধ্যমে কেউ নিজেদের সম্মান নষ্ট করবেন না, বিতর্কিত করবেন না।
ছোটখাটো হেল্প লাগলে আমি করব। লিগ্যালভাবে কাজ করার, ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনেক সুযোগ আছে, সেগুলো আপনারা করেন। আগামী পাঁচ বছর পর যেন ভোট চাইতে না হয়। এলাকার লোক যেন বলতে না পারে ভিপি নুর ভালো প্রতিমন্ত্রী হয়েছে কিন্তু তার আশপাশের লোক জ্বালাইয়া মারছে।
এ কথা যেন কেউ না বলে। আপনারা ভালো মানুষ। আপনারা ঘরের মানুষ, এ জন্য পরে এসেছি।’
রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল হাইস্কুল মাঠে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুর বলেন, ‘আমরা যদি বিজয়ী না হতাম তাহলে গলাচিপা-দশমিনায় এতদিনে নরক নেমে আসত।
বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যাবে না। নির্বাচনের আগেই হাতেপায়ে ধরেও তাদেরকে আনতে পারিনি। এলাকায় কী ধরনের লুটপাট করেছে। নির্বাচনের আগের দিনেও রাতে আমাদের শেষ প্রোগ্রামে আমাদের দুজন লোককে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। অনিচ্ছাকৃত ভুল আর বারবার পায়ে পাড়া দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরি বললে বুঝতে হবে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আপাতদৃষ্টিতে কিছু লোক মনে হয় তারা প্রভাবশালী। আপনারা তাদের চেনেন, নির্বাচনের সময় কী করেছে তারা। কিন্তু আমার জায়গা থেকে ভুলে গেছি। কিন্তু মাঠে যারা কাজ করেছে তারা ভুলবে না। কারণ তাদেরকে অপমান-অপদস্ত করেছে। এ মাঠের কেউ বলতে পারবেন না আমি বা আমার পরিবার দ্বারা আপনার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘চরকাজল, চরবিশ্বাসের লোকরা যদি একচেটিয়া ভোট না দিত তাহলে আমার বিজয়ী হওয়া সম্ভব হতো না। পয়সাওয়ালা লোকরা তারা বিকিয়ে গেলেও সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ আপনারা বিজয়ী করেছেন। আপনারা মন থেকে, বিবেক থেকে এলাকার ছেলের জন্য কাজ করেছেন। এ জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এ এলাকার জামায়াত বা চরমোনাইর সমর্থকরাও আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন। এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকরাও গলাচিপা গিয়েও আমাদের জন্য ভোট চেয়েছেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। এরপর ২০১৯ সালে এলাকার মানুষ দল-মত-নির্বিশেষে একটা সংবর্ধনা করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তখন একটি মহল আমার গেট ভাঙার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় বছরে আমি তাদের কিছু বলিনি। নির্বাচনের সময়ও ব্যাপক উৎপাত, ডিস্টার্ব করেছে। তারা যদি মন থেকে ভুল বুঝতে পারে তাহলে আমার কাছে নয়, এ এলাকার জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ক্ষমা চাইলে যদি মানুষ মাফ করে, সেটা মানুষ মাফ করবে। আমি তো এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকি না। হাসপাতাল, থানা হলে ভোগ করবে এলাকার মানুষ। আমি শুধু বলব আল্লাহ আপনারদের হেদায়েত করুক।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি চরকাজল, চরবিশ্বাসে এমবিবিএস ডাক্তার বসানোর। সব সময় না হলেও মাঝে মাঝে যেন বসে, সে ব্যবস্থা করব। চরকাজল, চরবিশ্বাসের মানুষের প্রত্যাশা এখানে একটা থানা হওয়া। সেটা যদি করে যেতে পারি সেটা আমাদের কাছে একটা ভালোলাগা হবে।
গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়ন শাখার গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম, গলাচিপা উপজেলার আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সোবাহান গাজী, চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
টিকে/