‘ধুরন্ধর’-এ ভারতীয় গুপ্তচর হিসাবে দাপিয়ে বেড়ালেন হামজা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২০ পিএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
বক্সঅফিসে ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর’। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাচ্ছে রণবীর সিংহ-কে। ছবিতে তিনি হয়েছেন গুপ্তচর হামজা আলি, যিনি পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে গোপন মিশন পরিচালনা করেন। অ্যাকশন আর থ্রিলারে ভরপুর এই চরিত্রে রণবীরের উপস্থিতি দর্শকের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছে।

তবে শুধু পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও রণবীরের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তানের এক অদ্ভুত যোগসূত্র। তাঁর ঠাকুরমা চাঁদ বার্ক ছিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সাদাকালো যুগের এই নায়িকা একসময় পাঞ্জাবি সিনেমার পরিচিত মুখ ছিলেন।
১৯৩২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের ঝুমরাহ অঞ্চলে জন্ম চাঁদের। দেশভাগের পর যা পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। প্রথম ছবির নাম ছিল ‘কহাঁ গয়ে’। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ছবির পরিচালক নিরঞ্জনকে বিয়ে করেন তিনি এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক পাঞ্জাবি সিনেমায় অভিনয় করেন।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চাঁদ বার্ক ছিলেন এক পরিচিত নাম। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও ছিল তাঁর দারুণ দক্ষতা। সে কারণেই তাঁকে ডাকা হতো ‘ডান্সিং লিলি অফ পাঞ্জাব’। ধারণা করা হয়, নাচের প্রতি রণবীরের সহজাত টান এসেছে তাঁর ঠাকুরমার কাছ থেকেই।
চাঁদ বার্কের ইচ্ছা ছিল, তাঁর ছেলে অভিনয় জগতে আসবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ছেলে বেছে নেন ব্যবসার পথ। তবে কয়েক দশক পর সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করেন তাঁর নাতি, পরিবারের সবার আদরের ‘বিট্টু’—আজকের বলিউড তারকা রণবীর সিংহ।
দুঃখের বিষয়, নাতির সাফল্য নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি চাঁদ বার্ক। রণবীরের অভিনয় জীবনের শুরুর দুই বছর আগেই, ২০০৮ সালে তিনি মারা যান। তবে বিশ্বাস ছিল, একদিন তাঁর নাতি বড় তারকা হবেন।
আজ ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যে যখন রণবীর সিংহ নতুন করে আলোচনায়, তখন ফিরে আসে সেই পুরনো গল্প—এক ঠাকুরমার স্বপ্ন, যা পূরণ হয়েছে প্রজন্ম পেরিয়ে।
এসএন