যারা অপকর্মে জড়িত ছিল তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে: হুইপ অপু
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৬ এএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরিয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, কারও বাড়ি বা জমি জোরপূর্বক দখলের দিন শেষ। যারা এসব অপকর্মে জড়িত ছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন এই দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।
সোমবার (২৩ মার্চ) গোসাইরহাট উপজেলা দাসেরজঙ্গল বন্দর সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা ঠাকুর মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকেই ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।দেশ এখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
হুইপ অপু বলেন, যারা একসময় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করত, তাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর কেউ কারও অধিকার হনন করতে পারবে না। এই দেশ সবার আমার যেমন অধিকার রয়েছে, আপনাদেরও ঠিক তেমনই অধিকার রয়েছে।
সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, শরীয়তপুর আমার পরিবার। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ আধুনিক ও মডেল শরীয়তপুর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ভোটের কালি আঙুল থেকে মুছে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। জনগণের উন্নয়নের কথা আলাদা করে বলতে হবে না সরকার ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
এসময় তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি জনগণের যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ বা অন্যায়ের বিষয়ে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক টি আই এম মহিতুল গনি মিন্টু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম সিদ্দিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী, গোসাইরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার দাস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা বিজন বাবু, শামসুর রহমান কলেজের সাবেক অধ্যাপক বিশ্বনাথ দাস এবং পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আলাউদ্দিন সরদার।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন উপজেলার বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
এসএস/টিএ