কীভাবে করোনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে ইমরান হাশমির জীবন?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৩ এএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
দীর্ঘ সময় ধরে ইমরান হাশমিকে ঘিরে যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা মূলত নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্র আর পর্দার এক বিশেষ ছকের মধ্যেই আটকে ছিল। একসময় তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই দর্শকের মনে ভেসে উঠত চুম্বনঘন দৃশ্য, তীব্র আবেগ আর ভিন্নধর্মী রোমাঞ্চে ভরা কিছু চরিত্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয়ের বাইরে বেরিয়ে এসে এখন তিনি নিজের অভিনয়জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে।
জন্মদিনে ফিরে দেখা যাচ্ছে তাঁর এই বদলে যাওয়ার পথ। একসময় মার্ডার, মার্ডার ২, জান্নাত কিংবা আশিক বানায়া -এর মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল নির্দিষ্ট এক বাণিজ্যিক আবেদন। দর্শকপ্রিয়তা ছিল, কিন্তু অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্নও ছিল সমানতালে।

এর মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনে আসে বিরতি। ছেলের অসুস্থতার সময় পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময়টিই পরে তাঁর ভাবনার ভিত বদলে দেয়। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সুযোগ আসে মহামারির সময়। চারপাশ থমকে থাকলেও নিজের ভেতরকার প্রস্তুতি থামাননি তিনি।
অভিনেতার কথায়, সেই সময় তিনি নিজের জীবনকে নতুনভাবে গুছিয়েছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা, চিত্রনাট্য পড়া, মানসিক প্রস্তুতি সব মিলিয়ে নীরবে নিজেকে তৈরি করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, সাফল্য আর ব্যর্থতা দুই-ই মানুষকে বিচলিত করতে পারে, তাই স্থির থাকা সবচেয়ে জরুরি।
এই বদলের প্রভাব পড়ে ছবির নির্বাচনেও। আগের তুলনায় চরিত্র বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সচেতন হন তিনি। ধীরে ধীরে এমন সব কাজের দিকে এগোন, যেখানে অভিনয়ের পরিসর বড়। চেহরে ছবিতে অমিতাভ বচ্চন–এর সঙ্গে অভিনয় সেই নতুন যাত্রাকে দৃশ্যমান করে। পরে অক্ষয় কুমার এর সঙ্গে কাজও তাঁর পর্দার অবস্থানকে অন্য মাত্রা দেয়।
একসময় যাঁকে ঘিরে নির্দিষ্ট একটি ছক ছিল, এখন সেই ইমরানই প্রমাণ করছেন শুধু জনপ্রিয়তার জন্য নয়, অভিনয়ের শক্তিতেও টিকে থাকা যায়। তাঁর দ্বিতীয় অধ্যায় যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
পিআর/টিকে