তেল-ডলারের চাপে টালমাটাল দক্ষিণ কোরিয়া, ১৭ বছরে সর্বোচ্চ দরপতন
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৬ পিএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রাবাজার ও শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন ডলারের বিপরীতে কোরিয়ান উয়নের দাম ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়। একই দিনে দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক কসপিও বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে।
সিউলের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সোমবার উয়নের বিনিময় হার ১৫০৪.৯ উয়ন প্রতি ডলারে লেনদেন শুরু করে। দিনের শেষভাগে তা আরও দুর্বল হয়ে ১৫১৭.৩ উয়নে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় ১৬.৭ উয়ন কম।
এর ফলে ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর এই প্রথম কোরিয়ান মুদ্রা এতটা নিচে নেমে এলো। এর আগে ২০০৯ সালের ১০ মার্চ উয়নের দর এক পর্যায়ে ১ হাজার ৫৬১ উয়ন পর্যন্ত পতন হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার নির্ভরতা বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার দেশটির অর্থনীতিতে দ্রুত প্রভাব পড়ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে। এই নৌপথ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪.৩৫ ডলারে পৌঁছে যায়।
একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ১০০ ডলার অতিক্রম করে এক পর্যায়ে ১০১.৫ ডলারে ওঠে। মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি কোরিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় ধস নামে।
ইউটি/টিএ