© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সিআইএ- এর রিপোর্ট৪ মাস পর্যন্ত অবরোধে টিকে থাকতে পারে ইরান

শেয়ার করুন:
৪ মাস পর্যন্ত অবরোধে টিকে থাকতে পারে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২১ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌ অবরোধ চললেও ইরান অন্তত চার মাস বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াই টিকে থাকতে সক্ষম। খবর রয়টার্স।

মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিআইএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলেও আরও প্রায় চার মাস পর্যন্ত তেহরান গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে না। ফলে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা সীমিতই থাকছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই মূল্যায়নের খবর প্রকাশ করে। তবে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই বিশ্লেষণকে ‘ভুল দাবি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, অবরোধ ইতোমধ্যে ইরানের বাণিজ্য, রাজস্ব ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় ‘গভীর ও ক্রমবর্ধমান ক্ষতি’ সৃষ্টি করছে।

শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স। পরে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হলেও নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা ইরান-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে। একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজগুলোর ধোঁয়া নির্গমন অংশে আঘাত করলে সেগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ওপরে উঠেছে। যদিও সপ্তাহের হিসাবে দাম এখনও ৬ শতাংশের বেশি কম রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হলেও যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হতো।

সংঘাত এবার উপসাগরীয় দেশগুলোতেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, শুক্রবার ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। এতে তিনজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণার পর ইরান হামলা আরও জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে আমিরাত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ নেয়।’

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় একজন নিহত, ১০ জন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন।

নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনীকে শাহেদ ড্রোন তৈরিতে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা করেছে।

ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের সামরিক শিল্প পুনর্গঠন ঠেকাতে এবং বিদেশে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা কমাতে তারা আরও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এছাড়া চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারসহ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও দ্বিতীয় দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বেইজিং সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন