জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি এওএবির
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪২ পিএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
অ্যাসোসিয়েশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সিদ্ধান্তে জেট ফুয়েলের (জেট এ-১) মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অযৌক্তিক।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিইআরসি সভায়, ৫ থেকে ২২ মার্চ সময়ের গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের পরিবর্তিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত বিবেচনায় জেট এ-১-এর মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটার ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২ দশমিক ২৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।
একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে আগমন করেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্য কমেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যেখানে ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ।
এওএবি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপবে।
একইসঙ্গে জেট ফুয়েলের ওপর কর বাড়ানো ফলে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। মূল্য বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
অতএব, এওএবি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে যে, জেট ফুয়েলের এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হোক, যাতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।
টিজে/এসএন