খনন কার্যক্রমে বাড়বে কৃষি উৎপাদন : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৮ পিএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশের পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সারা দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পানির স্তর পুনরুদ্ধার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার প্রামানিক পাড়ায় ঝিনাইকুড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কাজ শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খননের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। পঞ্চগড়েও তার ধারাবাহিকতায় প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ঝিনাইকুড়ি খাল পুনঃখনন করা হবে।
তিনি বলেন, একসময় খালটি প্রবাহমান নদীর মতো ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ভরাট হয়ে যায়। খালটি পুনঃখনন করা হলে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের উপকার হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুকনো মৌসুমে পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানি ব্যবস্থাপনাই নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মৎস্য চাষ, হাঁস পালন এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে খালের তীর ঘিরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। আগে ২০ ফুট খনন করলেই পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক জায়গায় ৬০ ফুটেও পাওয়া যায় না। খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার করা গেলে পানির স্তর স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল খনন কাজে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন খরচ কিছুটা বাড়তে পারে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে। সরকার অন্তত ৫০ শতাংশ কাজ শ্রমিক দিয়ে করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক খাল ও জলাশয় দখল হয়ে গেছে। এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরআই/এসএন