© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তারেক রহমানকে কর্নেল অলির পরামর্শ / ‘সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে জিয়া-খালেদার মতো নিজেও প্রসিদ্ধ হয়ে যান’

শেয়ার করুন:
‘সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে জিয়া-খালেদার মতো নিজেও প্রসিদ্ধ হয়ে যান’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৬ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
চাটুকারদের কথা না শুনে সংস্কারগুলো বিল আকারে পাস ও সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আপনার বাবা পুরো পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আপনার মা প্রসিদ্ধ হয়েছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। সুতরাং আপনিও প্রসিদ্ধ হয়ে যান সংস্কারগুলো করে, ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘সুযোগ আসে না। চাটুকারের অভাব নেই। আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ভিন্ন মন্দ দিকে পরিচালিত করার জন্য অনেক লোক থাকবে। শেষ পর্যন্ত কাঁধে সেই বোঝা আপনাকেই বহন করতে হবে। দোষ করবে মন্ত্রী কিন্তু বোঝা উঠাতে হবে আপনাকে। আপনি কেন বোঝা উঠাবেন? সুতরাং নিজেকে পরিষ্কার করুন। বারবার পরিষ্কার করুন। কেন আপনি তাদের সমর্থন দেবেন?’

সংস্কার প্রশ্নে তারেক রহমানকে নিজে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে কেন ডিমান্ড আসবে? বিরোধী দল থেকে ডিমান্ড আসার আগেই হাউজে উঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কারের জন্য আমরা ওই দিন ধার্য করলাম। ওই দিন সংস্কার বিল আসবে এবং পাস করা হবে। আপনার নামটা ইতিহাসে লেখান। দেশটাকে শান্তির পথে নিয়ে যান। আমরা তো অনেক খেসারত দিয়েছি।’

তরুণ একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে আমি কেন বিদ্রোহ করেছিলাম? সেই প্রশ্ন নিজেই উত্থাপন করে অলি আহমদ বলেন, ‘বৈষম্য ছিল একটা কারণ, দ্বিতীয়ত হচ্ছে সুশাসন ছিল না। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ৫০ বছরের বেশি সময় অতিক্রম করেছি। স্বল্প সময় ছাড়া (শুধু জিয়াউর রহমানের সময় ছাড়া) দলীয়করণ তো বন্ধ হয় নাই। সুশাসন আমরা নিশ্চিত করতে পারি নাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে আমরা পদায়ন করতে পারি নাই। আমি আর মামু ছাড়া বাংলাদেশে আর কেউ নাই। সরকারে আছে যারা, আর অফিসাররা। এটা তো আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১১ তারিখ, ১২ তারিখ ১১/১২টা পর্যন্তও সব ঠিক ছিল। এরপর সিচুয়েশন ধীরে ধীরে পাল্টানো শুরু হলো। উগ্রবাদীদের নাকি ভোট দেওয়া যাবে না? উগ্রবাদী বলতে কী বলছেন? যারা নামাজ পড়ে, দাড়ি রাখে, মসজিদে যায় তারা কি উগ্রবাদী? এখন তো উগ্রবাদীর সংজ্ঞাই বদলে গেছে। উগ্রবাদী তো তারাই যারা নিয়ম-নীতি শৃঙ্খলা কোনো কিছুই মানে না, আল্লাহকে মানে না, আল্লাহর রাসূলকে (সা.) মানে না তারাই হলো উগ্রবাদী। আর যারা নিয়ম মানে, নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে চলে, আল্লাহ ও তার রাসূলের পথে চলে তারা হলো সঠিক মুমিন মুসলমান। তাদের দ্বারা অন্য ধর্মের কারো ক্ষতি হতে পারে না।’




ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন