© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সরকারকে জামায়াত আমির / যদি সংসদে সমাধান না হয়, রাজপথ আমাদের পরিচিত

শেয়ার করুন:
যদি সংসদে সমাধান না হয়, রাজপথ আমাদের পরিচিত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩১ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
সরকারকে সবদিক থেকে সহযোগিতা করছেন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা তো সরকারের সফলতা চাই। কিন্তু সরকারই যদি উল্টা পথে হাটে, আমাদের তো করার কিছু নেই।’

রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যদি সংসদে সমাধান না হয়, এই রাজপথ আমাদের পরিচিত।

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) হাসিনুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানচিত্র আর পতাকার হাত ধরে বাংলাদেশ বদলে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে তা হয়নি দুর্নীতি আর অযোগ্যতার কারণেই তার সম্ভব হয়নি। দুই দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেও নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ ও দুর্নীতির কারণে এ ভূখণ্ডের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি।

দুর্নীতি শুধু টাকা পয়সা হাতালেই হয় না। সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হচ্ছে অযোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় বসিয়ে দেওয়া, যোগ্যতা সম্পন্ন লোকদের তাড়িয়ে দেওয়া। এটি সবচেয়ে বড় দুর্নীতি।

দুর্নীতি আর অযোগ্য নেতৃত্ব যতক্ষণ না পর্যন্ত সমাজ থেকে দূর হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সুফল ভোগ করতে পারবে না।

তিনি বলেন, শাসক বদলেছে কিন্তু শাসকের শোষণ করার ধারা বদলায়নি। ইতোমধ্যেই যেসব লক্ষণ ফুটে উঠেছে তাতে সবাই পরিষ্কার। সর্বশেষ যেটা পেরেক মারা হচ্ছে। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারাটা চলুক। এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট আছে তবে আমাদের দেশটা গণতান্ত্রিকভাবে সামনের দিকে চলুক আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের কথা বলতেছেন, ওই সংবিধানেই লেখা আছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করবে। তাহলে এরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে? এদের কে নির্বাচন করলো? দলীয় আনুগত্যের লোকদের বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এগুলো মানি না।

এ সময় সরকারি দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় সমালোচনা করেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা।

সরকারের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, আপনি সংবিধানের এক অংশ মানবেন আরেক অংশ মানেন না। ভারী মজা! একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দুইটা ভোট একই দিনে হয়েছে। আপনি গোস্ত মানেন কিন্তু ঝোল খাইতে রাজি না। একই তরকারি একই বাসনে পাকানো হয়েছে। গোস্তটা খেয়ে নিলেন বলছেন ঝোলটা হারাম। তো গোস্ত ঝোলের ভেতরে পাকানো হয়েছে। ঝোল যদি হারাম হয়, গোস্ত হালাল হয় কি করে? তাহলে গোস্তও হারাম।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে এত বোকা মনে করার কারণ নাই। জনগণ সব বুঝে। হ্যাঁ, আপনারা মানবেন, তবে সহজে মানবেন না, আমরা বুঝতেছি। এরকম অতীতেও কিছু কিছু বিষয় সহজে মানেন নাই। কিন্তু পরে ঠিকই মেনেছেন। নিজের জন্য বা কোনো দলের জন্য এই কাঠামোগত পরিবর্তন আমরা চাচ্ছি না, সংস্কার চাচ্ছি না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের জন্য চাই।

সভায় আগামী ২৯ মার্চ শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান, না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দেন জামায়াত আমির।

সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা যদি এই সরকারের ব্যর্থতা চাইতাম তাহলে আমরা রাস্তায় এখন নেমে আগুন জ্বালানো শুরু করতাম।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে। মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করুন। আগামী ২৯ তারিখ আবার অধিবেশন বসছে। আমাদেরকে নোটিশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সংস্কার বিষয়ে আলোচনার জন্য। আমরা সুযোগ দিয়ে বলতে চাই নোটিশের অপেক্ষা না করে অধিবেশন বসার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা দিন যে আমরা আপাদমস্তক যেভাবে সাইন করেছি ওভাবে বাস্তবায়ন করবো। আসুন এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আলোচনা করি সংসদে। আমরা প্রস্তুত খোলা মন নিয়ে..., প্রশ্ন। কিন্তু এইটা নিয়ে যে কোনো ধরনের টালবাহানা আমরা মানবো না।

তিনি আরও বলেন, যদি সংসদে সমাধান না হয়, এই রাজপথ আমাদের পরিচিত। আমরা প্রথমেই রাজপথ চাই না। আমরা চাই সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হোক, সংসদীয় গণতন্ত্রে মহান জাতীয় সংসদ।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে আমরা কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবো না। ৬৮ ভাগের ঊর্ধ্বে মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন একবার ওনারা বলেন, অক্ষরে অক্ষরে মানবো আরেকবার বলেন, জনগণ না বুঝে রায় দিয়ে দিছে। আরে ভাই জনগণ বুঝুক না বুঝুক ভোটের অধিকার তার, আপনার না। পাকিস্তান বাহিনী ভোটের অধিকার স্বীকার করে নাই বলে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।

আজকেও যদি পুরানো কায়দায় চিন্তা করা হয়, জনগণের ভোটকে অস্বীকার, অগ্রাহ্য, অপমাণ করার তাহলে দেশবাসীকেও অপমাণ করার খেসারত গোনার জন্য তৈরি থাকতে হবে।

যে দেশবাসী রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে হটানোর রাস্তা চিনে ফেলেছে, এই দেশবাসীকে আর দমানো যাবে না। কি দিয়ে দমাবেন? ফাঁসি? তৈরি আছি, গুলি করবেন? তৈরি আছি, আবারো আয়নাঘর কায়েম করবেন? তৈরি আছি। কিন্তু বলে দিচ্ছি, জীবনের বিনিময়ে সব ফাঁসি, মতলবি বিচার ব্যবস্থা গুড়িয়ে দেওয়া হবে। আর কায়েম করতে দেওয়া হবে না। জনগণের অধিকারের সঙ্গে যারাই ছিনিমিনি খেলবে তাদের সঙ্গে আমরা আপোষ করবো না।

দেশে চলমান ‘জ্বালানি সংকটের’ উল্লেখ করে শফিকুর সরকারি দলের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে বলবো সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আসি। এটা সরকারের একার সমস্যা নয়।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটা গ্লোবাল প্রবলেম। এই ধরনের জাতীয় সমস্যায় খোলা মনে সবাইকে নিয়ে বসেন।

এসএন

মন্তব্য করুন