প্রত্যেক সিনেমার পরে কেন মহেশ ভাটকে ২৫ হাজার রুপি দেন অনুপম খের!
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪২ পিএম | ২৬ মার্চ, ২০২৬
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের জগতে সক্রিয় অনুপম খের এখনও নিজের শুরুটা ভুলে যাননি। বরং জীবনের প্রথম বড় সুযোগের স্মৃতি ধরে রেখেই আজও পালন করে চলেছেন এক ব্যক্তিগত নিয়ম যে নিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন পরিচালক মহেশ ভাট। নতুন কোনও ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেই নিজের পারিশ্রমিকের একটি অংশ তিনি তুলে দেন গুরুদক্ষিণা হিসেবে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুপম জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতে এই অঙ্ক ছিল মাত্র আড়াইশ টাকা। সময় বদলেছে, পারিশ্রমিক বেড়েছে, অভিজ্ঞতাও বিস্তৃত হয়েছে তাই এখন সেই গুরুদক্ষিণার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পঁচিশ হাজার টাকায়। তাঁর কথায়, এই অর্থের অঙ্কের চেয়ে বড় বিষয় হলো কৃতজ্ঞতা, কারণ তাঁর বিশ্বাস, প্রথম সুযোগ না পেলে আজকের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।
১৯৮৪ সালে ‘সারাংশ’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন অনুপম। সেই ছবির পরিচালক ছিলেন মহেশ ভাট। বয়সে তরুণ হয়েও বৃদ্ধ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সেদিন নজর কাড়েন, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ পথচলা। তবে শুরুটা একেবারেই সহজ ছিল না।

অনুপম স্মরণ করেন, প্রথমদিকে তিনি মহেশ ভাটকে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোর মানুষ বলে মনে করেছিলেন। কারণ ছবির প্রস্তুতি প্রায় শেষ হওয়ার পর একবার তাঁকে চরিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধাক্কায় তিনি প্রায় মুম্বাই ছেড়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শেষবারের মতো দেখা করতে গিয়েই সরাসরি নিজের অবস্থান জানান পরিচালকের কাছে। তাঁর সেই সাহসই নাকি পরিস্থিতি বদলে দেয়, এবং শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি ফিরে পান তিনি।
সেই একটি সুযোগের পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। বয়সের এই পর্যায়েও নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগ্রহ কমেনি। এখন তাঁর আগ্রহ অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে। সে জন্য নিয়মিত শরীরচর্চাও করছেন বলে জানিয়েছেন।
অনুপমের কথায় স্পষ্ট, সাফল্যের দীর্ঘ পথ পেরিয়েও তিনি এখনও শুরুর মানুষের কাছে নিজের দায় স্বীকার করেন। আর সেই কারণেই প্রতিটি নতুন কাজের সঙ্গে ফিরে আসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক যা তাঁর কাছে শুধু অর্থ নয়, সম্পর্কের প্রতি সম্মান।
পিআর/এসএন