© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলো ইরান

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালী দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলো ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫২ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

প্রতিবেদন মতে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ জন্য তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
 
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কাজ চলছে। তবে কতটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বা কোন শর্তে সেগুলোকে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
 
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মালয়েশিয়াও প্রভাবিত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাসের সক্ষমতার কারণে দেশটি অন্য অনেক দেশের তুলনায় ‘ভালো অবস্থায়’ আছে।
 
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ করা মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হয়। সংঘাতের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে প্রাণালীটি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান।
 
তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়-এমন জাহাজের জন্য প্রণালী খোলা আছে। তবে তেহরান এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলছে। গত বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালী ‘শুধুমাত্র শত্রুদের জন্য বন্ধ।’ তিনি আরও বলেন যে, তেহরান চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানসহ মিত্র দেশগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তানসহ মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছি।’
 
বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হলেও মালয়েশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকার ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিপ্রতি মাসিক বরাদ্দ কমানো, সরকারি কর্মচারীদের ধাপে ধাপে বাসা থেকে কাজের আওতায় আনার মতো পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
 
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ছে, দাম বাড়বে সার ও জ্বালানিরও। তাই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক বেশি।তবে তার অর্থ এই নয়, মালযেশিয়া পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত।
 
ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালীতে টোলব্যবস্থা চালুর একটি আইন প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে কিছু জাহাজের কাছে ইরানি কর্তৃপক্ষ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করছে।

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন