মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে রুশ নজরদারি, ইরানকে তথ্য দিচ্ছে মস্কো: জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫০ এএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে নজরদারি চালাচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে রাশিয়া এই অঞ্চলের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার ছবি তুলেছে এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ও ব্রিটিশ ঘাঁটি ছাড়াও ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়াতে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, সংগৃহীত এই তথ্যগুলো রাশিয়া সরাসরি ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে যাতে তারা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষাপট আরও জোরালো হয়ে উঠেছে গত সপ্তাহে ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইরানের দুটি মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনার পর। যদিও ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সরাসরি ঘাঁটিতে আঘাত হানেনি, তবে এই হামলা ইরানের দূরপাল্লার সক্ষমতা এবং লক্ষ্যভেদী প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
জেলেনস্কি তার টেলিগ্রাম পোস্টে রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সমালোচনা করে বলেন, এটি অত্যন্ত অদ্ভুত যে যাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে, তারাই এখন সেই দেশগুলোর সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তথ্য সরবরাহ করছে। এখানে তিনি মূলত রুশ তেলের ওপর থেকে আমেরিকার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বা পেন্টাগন এই গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, রাশিয়া শুধু মার্কিন সামরিক যানের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্যই দিচ্ছে না, বরং শাহেদ ড্রোনের মাধ্যমে কীভাবে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যায়, সে বিষয়েও ইরানকে কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক আঁতাত পশ্চিমাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেএন/এসএন