© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে ৩ এলএনজি ট্যাংকার

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে ৩ এলএনজি ট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩২ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ আসছে। সর্বশেষ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এসব তথ্য জানান। সিঙ্গাপুর থেকে আসা জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়া অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা আরেকটি জাহাজ বুধবার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চলতি মার্চে মোট ১৭টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে আটটি জাহাজ এসেছে এবং আরও ছয়টি জাহাজ পথে রয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহে তিনটি এলএনজি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে এসেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আসছে। তিনটি ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতার থেকে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে কয়েকটি চালান না আসায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমন্বয় করছে পেট্রোবাংলা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত সাতটি এলএনজি ট্যাংকার দেশে এসেছে, যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আসে।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি নিয়ে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ বর্তমানে ক্রুড অয়েলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন তেল পরিশোধন করা হলেও নতুন চালান না আসায় মজুত কমে যাচ্ছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে জাহাজটি এখনও রওনা হতে পারেনি। একই কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরেকটি চালানের শিডিউলও বাতিল করা হয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বছরে মোট ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয় এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ থাকলেও আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে ক্রুড অয়েল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে চাপ বাড়তে পারে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন