গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১০ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এই অবস্থায় হামের টিকা কিনতে সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, গত আট বছর দেশে অতি সংক্রামক এ রোগের টিকাই দেওয়া হয়নি।
আজ রোববার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০২৬-এর (আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলা) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরপর কোনো সরকারই ভ্যাকসিন দেয়নি। আমরা কিন্তু এর মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। পারচেজ কমিটি পাস হয়েছে।ভ্যাকসিন আমরা যথাসময়ে সংগ্রহ করব এবং কার্যক্রম শুরু করব।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস বয়স থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।
টিকাদান কর্মসূচির কারণে দেশে হামের প্রকোপ কমে এসেছিল। কিন্তু এ বছর তা নতুন করে বেড়েছে। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায়ও হামের রোগী বাড়তে থাকে।
হামের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইনশা আল্লাহ, ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ প্রস্তুত করা হয়েছে, ভেন্টিলেটরসহ। শিশু হাসপাতালে করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের আটটি ইউনিটে করা হয়েছে। ডিএনসিসিতে করা হয়েছে। নর্থ বেঙ্গলেও করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জায়গা না পেয়ে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর সরকার পাঁচটি ভেন্টিলেটর পেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ রোববার আমরা সেগুলো সংগ্রহ করব। আগামীকাল সোমবার সকালে আমাদের সচিব রাজশাহী যাচ্ছেন, তিনি চারটি নিয়ে যাবেন এবং সেখানে স্থাপন করবেন।’
ওষুধ প্রস্তুতকারকেরা কিছুদিনের মধ্যে আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর সরকারকে সরবরাহ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব ভেন্টিলেটর হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করবে।
এমআর/টিএ