© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মজুতদারের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ

শেয়ার করুন:
মজুতদারের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৫ এএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। যেখানে ব্যবসাকে হালাল আর সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। (সুরা বাকারা: ২৭৫)

সমাজে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুত করে, যা সাধারণ জনগণের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামে এ ধরনের মজুতদারিকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
 
মজুতদারি কাকে বলে?
মজুতদারি হলো কোনো পণ্য বা খাদ্যশস্য অধিক মুনাফার আশায় বাজার থেকে তুলে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা, যাতে সাধারণ জনগণের কষ্ট হয়। যে সব জিনিস আটকিয়ে বা মজুত রাখলে সর্বসাধারণের কষ্ট বা ক্ষতি হয়, তাকে মজুতদারি বলে (ফাতহুল করিম ফী সিয়াগাতিন নবিয়্যিল আমিন, পৃষ্ঠা-১৩৫)
 
রসুলুল্লাহ সা. মজুতদারদের কঠোর শাস্তির কথা বলেছেন। হাদিসে এসেছে, 
 
পণ্যদ্রব্য আটক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী (সহিহ মুসলিম) মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যশষ্য মজুদ রাখে, সে ব্যক্তি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট (মিশকাত শরিফ)
 
যে ব্যক্তি চল্লিশ রাত পর্যন্ত খাদ্য দ্রব্য মজুদ করবে, তার সঙ্গে আল্লাহর কোন সম্পর্ক থাকবে না (মিশকাত শরিফ) কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যদ্রব্য আটকিয়ে রাখে অর্থাৎ মজুতদারি করে, আল্লাহ তার উপর মহামারি ও দারিদ্রতা চাপিয়ে দেন (ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী)
 
আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর মজুতদার হয় অভিশপ্ত। বিভ্রান্ত লোকেরাই শুধু মজুতদারি করে (ইবনে মাজাহ) এ থেকে স্পষ্ট যে মজুতদারির অভ্যাস সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি ধর্মীয়ভাবে গর্হিত কাজ।
 
 
সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দায়িত্বশীলদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী আইন অনুসারে, বিচারকদের দায়িত্ব হলো মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
 
আল্লামা শফি (রহ.) বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের পণ্য মজুদের কারণে যদি সর্বসাধারণের মধ্যে দুর্ভিক্ষের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তবে বিচারকের উচিত সমন জারি করা। মজুতদার যদি হুকুম পালন না করে, তাহলে বিচারক তার পণ্যগুলো সর্বসাধারণের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে দিবে (হেদায়া, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
 
এছাড়া সরকার ও প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিং করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া আর জনসাধারণকে সচেতন করা।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন