‘রাক্ষস’ আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে: আলীরাজ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩০ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
ঈদের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া রাক্ষস সিনেমা ঘিরে দর্শকমহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রেই নতুন করে উঠে এসেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ আলীরাজ। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের নানা পর্যায় পেরিয়ে এবার তিনি মনে করছেন, এই সিনেমাই যেন তাঁকে নতুন করে শুরু করার সাহস দিয়েছে। দর্শকের প্রতিক্রিয়া, নতুন নির্মাতাদের কাজ, চলচ্চিত্রের সংকট আর সম্ভাবনা সব মিলিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার অনেক কথাই তুলে ধরলেন তিনি।
আলীরাজ জানান, সিনেমাটি মুক্তির পর অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের যে সাড়া মিলছে, তা তাঁর প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অনেক দর্শক টিকিট না পেয়ে প্রেক্ষাগৃহ থেকে ফিরে গেছেন বলেও তিনি শুনেছেন। তাঁর বিশ্বাস, বড় প্রেক্ষাগৃহের বাইরে একক পর্দার হলগুলোতেও সিনেমাটি গেলে দর্শকসংখ্যা আরও বাড়বে। কাছের মানুষদের কাছ থেকেও তিনি অভিনয়ের প্রশংসা পাচ্ছেন, যা তাঁকে বিশেষভাবে আনন্দিত করছে।
এই কাজটিকে নিজের জীবনের নতুন সূচনা বলার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলেও সব চরিত্র সমানভাবে মনে থাকে না। কিন্তু ‘রাক্ষস’ তাঁকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। মনে হয়েছে, যেন আবারও নতুন উদ্যমে নিজেকে আবিষ্কার করছেন। তাঁর মতে, তিনি এখনও থেমে যাননি, আর সেই প্রমাণ এই সিনেমাই।
সিনেমাটিতে সিয়াম আহমেদ-এর সঙ্গে কাজ করেও নিজের আলাদা উপস্থিতি তৈরি করতে পারাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন আলীরাজ। তিনি বলেন, নতুন নির্মাতাদের কাজে এখন আলাদা এক সাহস ও বৈচিত্র্য দেখা যায়। বর্তমান প্রজন্মের নির্মাতাদের চিন্তা ও নির্মাণশৈলী তাঁকে মুগ্ধ করছে।
অভিনয়জগতের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আগের সময়ের সিনেমা আর এখনকার সিনেমার উপাদান একেবারেই আলাদা। এখন গল্পের ধরন বদলেছে, নির্মাতারা আরও সচেতন হয়েছেন। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক।
সিনিয়র শিল্পীদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে কিছু আক্ষেপও রয়েছে তাঁর। তিনি মনে করেন, অভিজ্ঞ শিল্পীদের অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অনেকেই কাজ না পেয়ে ঘরে বসে থাকেন। তবে নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করেন, কারণ এখনও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন।
মজার ছলে বয়স কমে যাওয়ার যে কথা তিনি বলেছেন, তার মধ্যেও আছে এক ধরনের সত্যতা। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করতে করতে নিজেকে আরও প্রাণবন্ত মনে হয় বলে জানান তিনি। নতুনদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারাটাকেই নিজের বড় আনন্দ বলে মনে করেন।
নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়-এর কাজের প্রশংসা করতে গিয়ে আলীরাজ বলেন, তিনি অত্যন্ত নিবেদিত একজন নির্মাতা। তাঁর আগের কাজের তুলনায় ‘রাক্ষস’ আরও পরিণত। আসন্ন কোরবানির ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বিদায় নিয়েও তিনি আশাবাদী।
নতুন এই সিনেমায় তাঁকে ইমামের চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন আলীরাজ। তাঁর দাবি, গল্পের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে সহিংসতা নেই, আছে অন্যরকম আবেগ।

ঢালিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শিল্পটি ছোট হলেও সম্ভাবনা অনেক। ভালো গল্প, নতুন নির্মাতা এবং নতুন দর্শক সব মিলিয়ে সামনে এগোনোর সুযোগ রয়েছে। তবে বড় সংকট হিসেবে তিনি দেখছেন হলের সংখ্যা কমে যাওয়া। তাঁর মতে, ভালো পরিবেশের প্রেক্ষাগৃহ না বাড়ালে দর্শককে ধরে রাখা কঠিন হবে।
ওদিকে ওটিটি মাধ্যম নিয়েও আগ্রহ আছে তাঁর। এখনও প্রস্তাব না এলেও উপযুক্ত গল্প ও চরিত্র পেলে নতুন মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরতে চান।
সবশেষে দর্শকদের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আলীরাজ। তাঁর কথায়, দর্শকরাই শিল্পীদের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর তাঁদের ভালোবাসাই নতুন কাজের অনুপ্রেরণা।
পিআর/টিএ