মিয়ানমারের কোষ্টগার্ডের হাতে ১৬ বাংলাদেশি আটক
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৭ এএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলার ১০ জনসহ মোট ১৬ বাংলাদেশি জেলে মিয়ানমারের কোষ্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন। আটকের ১০ দিন পার হলেও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে আটক জেলেদের পরিবার। বুধবার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান।
রামগতি থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মার্চ মা-বাবার দোয়া নামের একটি ট্রলার নিয়ে ১৬ জন জেলে রামগতির মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেন।
ট্রলারে থাকা জেলেদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ৯ জন, কমলনগরের ১ জন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ৩ জন, চট্টগ্রামের ১ জন, কক্সবাজারের মহেশখালীর ১, এবং ভোলার দৌলতখানের ১ জনসহ মোট ১৬ জন জেলে ছিল।
আটক জেলেদের পরিবারের দাবি, কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমা থেকে তাদের মিয়ানমার কোস্টগার্ডের সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনার ১০ দিন পার হলেও তাদের কোনো হদিশ না পাওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর।
আটক জেলেরা হলেন- রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের জুয়েল, চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের মো. নিরব, রাকিব হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, দক্ষিণ টুমচর গ্রামের লিটন, সোনালী গ্রামের ফরহাদ হোসেন, চরগজারিয়ার মেজবাহ উদ্দিন, তাহমীদ, তামজীদ, কক্সবাজারের মহেশখালীর নয়াপাড়া গ্রামের তারেক রহমান, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর উত্তর কাট্রলি এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরছোট লামছি ধলি গ্রামের সাইমুম, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মোঃ শাহজাহান, উত্তর চরবাঘা গ্রামের জাবের হোসেন, চরপানা উল্লাহ গ্রামের সোহাগ ও কমলনগর উপজেলার চরজগবন্ধু গ্রামের অজি উল্লাহ।
জেলেদের স্বজনরা জানান, গত ২৮ মার্চ আটক জেলেদের সঙ্গে তাদের শেষবার মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর থেকেই তাদের মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। কোনোভাবেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে জানতে পারেন, তারা মিয়ানমারের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন।
রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মোঃ সফিকুর রহমান বলেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৯ জন জেলে সহ মোট ১৬ জন জেলে মিয়ানমারের কোস্টগার্ডের হাতে আটকের খবর তিনি পেয়েছেন।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। আটক জেলেদের উদ্ধারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।’
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘মিয়ানমারের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হওয়া জেলেদের উদ্ধারে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
আরআই/এসএন