একই দিনে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৭ পিএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় একই দিনে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একাধিক আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মেলা থেকে ফেরার পথে মৃত্যু
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দিতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া মাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, চাঁদপুরের বেলতলী সোলেমান লেংটার মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিহতরা হলেন—দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং একই এলাকার মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে চান্দিনা কাঠের পুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছাত্রের নাম ইবনে তাইম। তিনি চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার বড় ছেলে এবং বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় আবু সাইদ বলেন, চট্টগ্রামগামী একটি লরি চাপা দিলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয় ওই ছাত্র। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক লরিটি এলাকাবাসী আটক করেছে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে নিহতের মরদেহ সেখানে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মহাসড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় ওই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলেই দুই চালকের মৃত্যু
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই দুই পরিবহনের দুই চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মইন (৪০) এবং মেহেরপুর জেলার কেশবপুর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩৫)।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই চালক নিহত হন এবং ট্রাকের হেলপার আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
লাশ পরে আছে হাসপাতালে
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৃথক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিয়ারবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাব উদ্দিন।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়। নিহত নারীর নাম হাজেরা বেগম (৭০)। তিনি চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।
একই দিন ভোরে উপজেলার পদুয়া এলাকায় ট্রাক মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় আরও একজন নিহত হন। নিহত বক্তির নাম ওমর ফারুক (৩৯)। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হাজেরা বেগমের মরদেহ কিছু সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিল। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করলে স্বজনরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, ভোরে নিজের নষ্ট হয়ে যাওয়া ট্রাক দেখতে গিয়ে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় ওমর ফারুক নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, কুমিল্লায় মহাসড়কের দুর্ঘটনার কারণ অনেকগুলো। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতিসীমা ৮০। কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় গতি সীমা ৩০, ৪০, ৫০, ৬০ দেওয়া। কিন্তু অনেকে তা মানে না। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন রেঞ্জের গাড়ি একসাথে চলায় আরও একটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। কুমিল্লায় সড়কে আইনশৃঙ্খলা মানার প্রবণতাও কম। আমাদের টিম সবসময় সড়কে থাকে এবং আমরা চেষ্টা করি সবাইকে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে।
ইউটি/টিএ