সরকার আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩০ পিএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭,৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার 'কৃষক কার্ড' প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এর পাইলটিং করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ৩২৯৫ জন ইমাম, ২৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত, বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষসহ সর্বমোট ৯১০২ (নয় হাজার একশত দুই) জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী প্রেরণ করা হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড প্রদান বিষয়ের পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা জেলায় ২৫ লক্ষ ই-হেলথ কার্ড প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২০,০০০ কি.মি. খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ, ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা ও টিআর-এর মাধ্যমে ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কার করবে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।
এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে, ৩৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে এবং ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুন, ২০২৬-এর মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাই-টেক বা সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে Paypal- (পেপাল) এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য 'ক্রীড়া ভাতা' চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই Certificate of Eligibility (CoE)-এর ভিত্তিতে এই ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হয়েছে।
ইউটি/টিএ