যুদ্ধের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৫ পিএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস এবং জাতীয় প্রকৃতি দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
ইরানে প্রতি বছর ১ এপ্রিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। ১৯৭৯ সালের গণভোটের মাধ্যমে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসানের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। একই সময়ে এটি ন্যাশনাল নেচার ডে বা জাতীয় প্রকৃতি দিবস হিসেবেও পালিত হয়, যা পারস্য নববর্ষ নওরোজের ১৩ দিনের ছুটির সমাপ্তি নির্দেশ করে।
বার্তায় মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আগ্রাসন দেশের জনগণের পাশাপাশি ভূমি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশকেও নিশানা করেছে। তিনি বলেন, ‘যখন নিকৃষ্ট ও নির্মম আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রুরা মানবিক, নৈতিক বা অস্তিত্বগত কোনো সীমা মানছে না এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশেও ক্ষতিসাধন করেছে, তখন দেশের উন্নয়ন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রতিটি প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।’
ইরানের বীর জাতি এ বছরের নওরোজকে মহাকাব্যিক সংকল্প ও সম্মানের সাথে জড়িয়ে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বার্তার মূল বিষয় ছিল ইরানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক আগ্রাসনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য।
মোজতবা খামেনি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আগ্রাসনকারীদের হামলার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ১৮৬ শিক্ষার্থী নিহত হন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুহত্যাকারী, দানবীয় মার্কিন ও জায়নবাদী শয়তানরা স্কুলের কচি চারাগাছগুলোকে নৃশংসভাবে শহিদ করেছে।’
নিহতদের স্মরণে সর্বোচ্চ এই ধর্মীয় নেতা সারাদেশের শহর ও গ্রামের মানুষকে প্রকৃতি দিবস থেকে বসন্তের শেষ পর্যন্ত একটি সমন্বিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এবি/টিএ
এবি/টিএ