ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ট্রাম্পের হাসিঠাট্টা, জবাব দিলেন ম্যাখোঁ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৬ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর ওপর চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ না নেওয়ায় ম্যাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অশোভন’ বলেছেন। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ খবর বলা হয়েছে।
স্থানীয় সময় গত বুধবার ওয়াশিংটনে একটি মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি ফরাসি উচ্চারণ অনুকরণ করে বলেন, ‘ম্যাখোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, আর ম্যাখোঁ এখনও তার চোয়ালে ঘুষির ধাক্কা সামলাচ্ছেন।’ ট্রাম্প ২০২৫ সালের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এমন মন্তব্য করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ভিয়েতনাম সফরের সময় বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার আগে ব্রিজিত কয়েকবার স্বামী ইমানুয়েল ম্যাখোঁকে ধাক্কা দেন। এতে প্রেসিডেন্ট সামান্য পিছিয়ে যান এবং ক্যামেরার দিকে হাত নাড়েন। ওই সময় ব্রিজিত আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ফলে তার আচরণ পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছিল না। পরে দুজন একসঙ্গে সিঁড়ি নামলেও ব্রিজিত হাত ধরেননি।
এ ঘটনার পর হ্যানয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ম্যাখোঁ বলেন, এটি কোনো ঝগড়া ছিল না, তারা শুধু মজা করছিলেন এবং ঘটনা তেমন গুরুতর নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তার ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে করা বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘মানসম্মত নয়’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এর জবাব দেওয়ার দরকার নেই এবং এগুলো মার্জিত এবং মানসম্মত ভাষা নয়।’
ইরান যুদ্ধ এবং ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে কয়েক দিনের উত্তেজনার পর বিরক্ত ম্যাখোঁ পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, ‘অনেক বেশি কথা হচ্ছে। এটা কোনো তামাশা নয়।’ ম্যাখোঁ আরো বলেন, ‘তামাশা করার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কাজ করা এবং যুদ্ধবিরতির ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের সকলের স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’
ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলও ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। সংসদের নিম্নকক্ষের সভাপতি ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, ‘এই সময়ে বিশ্বের ভবিষ্যৎ ও ইরানের লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে, আর আমাদের একজন রাষ্ট্রপতি হাসছে ও অন্যকে উপহাস করছে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’ এমনকি কট্টর-বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড-এর সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোম্পার্ডও ম্যাক্রোঁর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।
তিনি ম্যাখোঁর একজন সমালোচক। তিনিও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার মতবিরোধের মাত্রা সম্পর্কে আপনি অবগত আছেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের তার সঙ্গে এভাবে কথা বলা এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে এমনভাবে মন্তব্য করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ রক্ষণশীল ফরাসি দৈনিক লে ফিগারো বলেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি বিতর্কিত মন্তব্য।’
একই সময় ট্রাম্প ম্যাখোঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক কথোপকথনের কথা টেনে আনেন। ট্রাম্প ম্যাখোঁকে বলেছিলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে সাহায্য পেলে খুশি হব, যদিও আমরা দুষ্কৃতকারী ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মূলের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছি। যদি পারেন, অবিলম্বে জাহাজ পাঠান।’ এরপর তিনি ফরাসি উচ্চারণে ম্যাখোঁর জবাব অনুকরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘না না না, আমরা তা করতে পারি না, যুদ্ধ জেতার পর করতে পারব।’ ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি বলেছি, যুদ্ধ জিতলে আমার ইমানুয়েল দরকার নেই।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প নিজেও ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়েছেন।
এবি/টিএ