© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের বৃহত্তম সেতুতে হামলা, ট্রাম্পের মন্তব্য ‘আরো আসছে’

শেয়ার করুন:
ইরানের বৃহত্তম সেতুতে হামলা, ট্রাম্পের মন্তব্য ‘আরো আসছে’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫২ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বৃহত্তম সেতুটি ধ্বংস হয়েছে। এক দিন আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যদি যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি না হয়, তিনি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দিতে পারবেন।
তেহরান ও কারাজের মধ্যে ১৩৬ মিটার উঁচু এবং ৪০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন বি-১ ঝুলন্ত সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। সেতু ধ্বংস হওয়ার ভিডিওতে কালো ধোঁয়ার স্তূপ দেখা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। সেতুর মাঝখানে বড় ফাঁক দেখা গেছে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরানের বৃহত্তম সেতুটি ধসে পড়ল। এটি আর ব্যবহার করা যাবে না।

যদি কোনো সমঝোতা না হয়, আরো অনেক কিছু ঘটবে।’ ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে এবং যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই তার কৌশলগত লক্ষ্য পূর্ণ করবে। 

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্য হবে। ইরানের কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন, তবে সেতুর ওপর এই হামলা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইরানের ইসফাহান শহরের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার ভিডিও বৃহস্পতিবার সত্যি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাছাকাছি একটি গাড়ি থেকে আগুনের শিখা ও দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। হামলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গাড়ির চালক।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান তার ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ বা সবই ইসফাহানে সরিয়ে নিয়েছে। যদি এটি আরো সমৃদ্ধ করা যেত, তাত্ত্বিকভাবে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব হতো। যুক্তরাষ্ট্রে জল্পনা রয়েছে, ট্রাম্প ভূগর্ভস্থ এই ভান্ডার থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ উদ্ধার করার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান করতে পারেন। 

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও কয়েকজন সহযোগীকে আক্রমণ করেছে। এর আগে ইসরায়েল বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর একটি সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরো কঠোর ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালাবে। খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাকারি বলেছেন, শত্রুরা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।

যুদ্ধের ফলে ইরান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত এক হাজার ৯০০ জন নিহত এবং ২০ হাজার আহত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বিশ্ব একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব বিপর্যয়কর হতে পারে।

এসএস/এসএন

মন্তব্য করুন