ইরানকে নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৮ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর হামলা চললেও ইরান–এর প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো কার্যত অক্ষত আছে। পাশাপাশি দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনও মজুত রয়েছে।
তবে এসব লঞ্চারের কিছু বর্তমানে সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী নয়। বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে অনেক স্থাপনা অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন তার সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে ইসরাইল পূর্বে জানিয়েছিল, তারা ইরানের প্রায় ৪৭০টি ব্যালিস্টিক লঞ্চারের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকার্যকর করেছে। কিন্তু ফাঁস হওয়া মার্কিন তথ্য সেই দাবির সঙ্গেও পুরোপুরি মিলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ হতে পারে ‘অক্ষত’ এবং ‘ব্যবহারযোগ্য’ লঞ্চারের সংজ্ঞায় ভিন্নতা। অনেক লঞ্চার কাঠামোগতভাবে অক্ষত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়—এমন পরিস্থিতিকে দুই পক্ষ ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, হামলায় প্রায় ২০০টি লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৮০টি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এসব স্থাপনা মূলত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে ছিল, যেখানে প্রবেশপথ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান এখনো হাজার হাজার ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।
একটি সূত্র সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এখনো পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা রাখে। তবে এই প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এসব তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ অভিযানের সাফল্যকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এবি/টিএ