হরমুজ প্রণালী এড়াতে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কথা ভাবছে উপসাগরীয় দেশগুলো
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৩ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, যাতে তারা তেল ও গ্যাস রফতানি চালিয়ে যেতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইরান।
এর জেরে গত একমাসে পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন মতে, সরকারি কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে নতুন পাইপলাইন তৈরি করা। তবে এসব প্রকল্প খুব ব্যয়বহুল, রাজনৈতিকভাবে জটিল এবং বাস্তবায়নে অনেক বছর সময় লাগে।
বর্তমান সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের গুরুত্ব প্রতীয়মান হচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়, বিশেষ করে ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ থেকে শিক্ষা নিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল।
এখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত একটি অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক সমুদ্রবন্দর ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছায়, ফলে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি রফতানি সম্ভব হয়।
অনেক বিশেষজ্ঞ এখন বলছেন, এই পাইপলাইন তৈরি করা ছিল খুবই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো–এর প্রধান আমিন নাসের জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা এই পাইপলাইনকেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছেন।
এখন সৌদি আরব ভাবছে, কীভাবে তাদের দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের আরও বড় অংশ পাইপলাইনের মাধ্যমে রফতানি করা যায়, যাতে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমে। এজন্য তারা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানো বা নতুন পাইপলাইন তৈরি করার বিষয়ও বিবেচনা করছে।
আগে এমন অনেক পরিকল্পনা থাকলেও খরচ বেশি ও জটিলতার কারণে সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে যেসব পরিকল্পনা শুধু কাগজে ছিল, এখন সেগুলো বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
তাদের মতে, সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান হবে একটিমাত্র পাইপলাইন নয়, বরং একাধিক পাইপলাইনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এতে কোনো একটি পথ বন্ধ হলেও অন্য পথ দিয়ে রফতানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এই ধরনের বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
এমআর/টিকে