ইরানের শাসনবদল পরের কথা, পেন্টাগনে চলছে ছাঁটাইয়ের মেলা!
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২২ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
কথায় আছে- অপরের অমঙ্গলের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেরই তাতে পড়তে হয়। তেহরানের সরকার পরিবর্তনে নেমে এখন ওয়াশিংটনের পেন্টাগন আর হোয়াইট হাউসের চেয়ারগুলোই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের (অপারেশন এপিক ফিউরি) মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনে নজিরবিহীন এক ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। যুদ্ধের রণকৌশল এবং প্রশাসনিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে গত কয়েকদিনে এক ডজন সামরিক ও বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সামরিক নেতৃত্বে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো হয়েছে সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে। জানা গেছে, স্থলসেনা ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে হোয়াইট হাউসের সাথে মতপার্থক্যের জেরেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
একই দিনে পদ হারিয়েছেন আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হডনি এবং চিফ অফ চ্যাপলিন্স মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। এর আগে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি কিউ ব্রাউন এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তিকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কেবল সামরিক বাহিনীই নয়, বৃহস্পতিবার নাটকীয়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে। নির্দিষ্ট কিছু মামলার তদন্ত এবং এপস্টিন ফাইল নিয়ে প্রেসিডেন্টের অসন্তোষই এর মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন টড ব্ল্যাঞ্চ।
তবে এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ সবাই মুখ বুজে মেনেও নিচ্ছেন না। গত ১৭ মার্চ ‘ইরান কোনো আসন্ন হুমকি নয়’-এমন সত্য উচ্চারণ করে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের ডিরেক্টর জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। সব মিলিয়ে তেহরানের সরকার পতনের আগে ওয়াশিংটনের আমলাতন্ত্রের যে পতন হচ্ছে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় কৌতুক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমআই/টিকে