যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ট্রাম্পের দেড় লাখ কোটি ডলারের বাজেট প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩১ এএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বাড়তে থাকা ব্যয় এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি মোকাবিলা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের এক বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের অনুমোদন চেয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, পেন্টাগনের ব্যয় এক বছরেই ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে এবং ফুরিয়ে আসা অস্ত্রের মজুদ পূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই বাজেট প্রস্তাবটি পঞ্চম সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপকে স্পষ্ট করে তুলেছে। পাশাপাশি সামরিক ব্যয়ের এই নাটকীয় বিস্তারের জন্য অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, ইরান যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন এবং রসদ সরবরাহের খরচ হিসাবে ধরার আগেই এই ব্যয়ের বিশালত্ব যুদ্ধের আর্থিক বোঝার গভীরতা তুলে ধরছে।
প্রতিরক্ষা বাজেটের এই বিশাল বৃদ্ধি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা-বহির্ভূত খাতে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ শতাংশ) কাটছাঁটের প্রস্তাব করেছে। এর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে পরিবেশগত উদ্যোগ, আবাসন সহায়তা এবং শিক্ষা তহবিলের মতো বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিকে। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের মতে, এই কাটছাঁট তথাকথিত ‘অপচয়মূলক’ ব্যয়কে নির্মূল করবে এবং কিছু দায়িত্ব অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর ন্যস্ত করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার যুক্তি হলো—যুদ্ধকালীন সময়ে ফেডারেল সামাজিক কর্মসূচিগুলোর বিনিময়ে হলেও সামরিক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের পক্ষে ডে-কেয়ার, মেডিকেড বা মেডিকেয়ারের দেখাশোনা করা সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন যখন সামরিক সুরক্ষার দিকে মনোনিবেশ করছে, তখন এই ধরনের দায়িত্বগুলো অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে পরিচালনা করা যেতে পারে।
ইউটি/টিএ