ওজন কমিয়ে বিপাকে অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী!
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৮ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবনে বহু চরিত্রে দর্শকের সামনে এসেছেন শঙ্কর চক্রবর্তী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিজের চেহারার পরিবর্তনই যেন তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন এক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ থাকার জন্য ওজন কমিয়েছিলেন তিনি, অথচ সেই সিদ্ধান্তের পরই কাজের জগতে শুরু হয়েছে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া।
শঙ্করের কথায়, আগের তুলনায় শরীরের গঠন বদলে যাওয়ার পর অনেকেই মনে করছেন তিনি অসুস্থ। এই ভুল ধারণার প্রভাব পড়ছে কাজের সুযোগেও। ধারাবাহিক, চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক চিত্র নানা জায়গায় আগের মতো ডাক পাচ্ছেন না বলেই তাঁর আক্ষেপ। বিষয়টি নিয়ে হতাশা লুকাননি অভিনেতা। বরং রসিকতার সুরে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এবার খালি গায়ের ছবি প্রকাশ করবেন, যাতে সবাই বুঝতে পারেন তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। সদ্য শেষ করেছেন তিনটি নতুন ছবির কাজ। এক ছবিতে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা, আরেকটিতেও একই ধরনের দায়িত্বশীল চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। অন্য একটি ছবিতে তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের এক বাবার ভূমিকায়, যার অপূর্ণ স্বপ্ন পরে ছেলেকে ঘিরে নতুনভাবে ফিরে আসে।

নতুন কাজগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে তাঁর বেশির ভাগ দৃশ্য রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে। দুই বাংলার শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করাকে তিনি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন।
তবে কাজের সুযোগ কমে যাওয়া নিয়ে তাঁর উপলব্ধি স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, যখন ধারাবাহিকভাবে কাজ হাতছাড়া হতে থাকে, তখন বেছে নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। টিকে থাকতে হলে কাজ করতে হয়, কারণ জীবনযাপন ও পেশা দুটিরই প্রয়োজন আছে।
নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ নিয়েও তাঁর বক্তব্য খোলামেলা। তিনি বলেন, নতুনদের সুযোগ দেওয়া জরুরি, কারণ এভাবেই তারা পরিচিতি পায়। অভিজ্ঞ শিল্পী হিসেবে সেই জায়গায় তাঁর আপত্তি নেই, বরং কাজের অভিজ্ঞতা ভালোই লেগেছে।
শঙ্করের এই অবস্থান এমন এক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে, যেখানে অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করতে হয়। চেহারার পরিবর্তন, কাজের প্রতিযোগিতা আর সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর চাপে থেকেও তিনি অভিনয় ছেড়ে যেতে চান না। বরং নতুন চরিত্রে নিজেকে ধরে রাখার লড়াইটাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।
পিআর/টিকে