© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শুটিং নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য অভিনেত্রী সোহিনীর

শেয়ার করুন:
শুটিং নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য অভিনেত্রী সোহিনীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১৫ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টলিউডজুড়ে যখন শোকের আবহ, তখন একের পর এক প্রশ্নও সামনে আসছে শুটিংয়ের নিরাপত্তা, অনুমতি এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে। সেই প্রেক্ষাপটে এবার খোলামেলা মত জানালেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। তাঁর কথায়, বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে ব্যবস্থার ভেতরের অসংখ্য ত্রুটি সামনে আসে না, আর ঘটনার পরও সেগুলো দ্রুত ঢেকে দেওয়ার প্রবণতা থেকেই যায়।

সোহিনীর মতে, আমাদের চারপাশের বাস্তবতায় এমন অনেক ফাঁকফোকর আছে, যেগুলো দীর্ঘদিন অদৃশ্য থেকে যায়। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই বোঝা যায় কতটা অগোছালো অবস্থার মধ্যে কাজ চলছে। তাঁর ভাষায়, বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে ভেতরে অনেক গলদ জমে আছে।

রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে আসছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। কেউ বলছেন শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল, কেউ বলছেন অভিনেতা নিজেই গভীর জলে গিয়েছিলেন, আবার কারও বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা। সোহিনীর মতে, এত পরস্পরবিরোধী কথার মাঝেও প্রকৃত সত্য খুঁজে বের করা জরুরি, কারণ সবচেয়ে বেশি উত্তর প্রাপ্য রাহুলের পরিবারের।

তিনি স্পষ্ট বলেন, রাহুলের মা, সন্তান এবং ঘনিষ্ঠজনেরা এই ঘটনা কখনও ভুলতে পারবেন না। তাই কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেই উত্তর তাঁদের জানা প্রয়োজন। শুধু শোক প্রকাশ নয়, দায় কোথায় ছিল সেটাও সামনে আসা দরকার।

শুটিংয়ের অনুমতি প্রসঙ্গে সোহিনী আরও বলেন, প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে গেলে সম্ভবত ওই জায়গায় দৃশ্যধারণের অনুমোদন মিলত না। কারণ সংশ্লিষ্ট স্থানটি যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা অনেকেরই জানা ছিল। সমুদ্রসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন কীভাবে নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর থাকে, সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।



অভিনেত্রী মনে করিয়ে দেন, আউটডোর শুটিংয়ে প্রায় সব শিল্পীকেই কোনো না কোনো সময় ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় না, যতক্ষণ না বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এবারও তেমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার পর আবার সবাই নড়েচড়ে বসেছে।

ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গেও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, অর্থ প্রয়োজন হতে পারে পরিবারের বাস্তব জীবনের জন্য, কিন্তু একটি অকালমৃত্যুর শূন্যতা কখনও অর্থ দিয়ে পূরণ হয় না। তাই ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাও সমান জরুরি।

সব মিলিয়ে সোহিনীর বক্তব্য এখন শুধু সহমর্মিতার প্রকাশ নয়, বরং শিল্প অঙ্গনের নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে গভীর প্রশ্নেরও প্রতিফলন।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন