আজ থেকে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৩ এএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ তথ্য জানান। এসময় তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বরগুনা, পাবনা, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর এবং যশোরসহ মোট ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই বিশেষ কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেখানেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘টিকাদান কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে।
টিকার পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, যেসব শিশু অসুস্থ শুধু তারাই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলটি পাবে।’
অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, আগে টিকা নেয়া থাকলে আবারও দেওয়া যাবে কি না এমন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘যারা ইতিপূর্বে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিয়েছেন, তারাও এই বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। একাধিকবার এই টিকা নিলেও শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি নেই।’
যে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া হবে-
বরগুনা (বরগুনা পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (গাজীপুর সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোণা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (যশোর পৌরসভা ও সদর), নাটোর (নাটোর সদর), মুন্সীগঞ্জ (মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি), শরীয়তপুর (জাজিরা)।
দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা বা পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে। নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।
এসকে/টিকে