© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা

শেয়ার করুন:
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২৪ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুফল চন্দ্র গোলদার, কানুনগো শরীফ আহমেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রায়হান বকসী এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় ব্যক্তি, মো. আফতাব আলম, মো. শাহাবউদ্দিন, মো. হাফিজ উদ্দিন লালখা ও অখিল চন্দ্র।

তবে অভিযুক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘ওরা যে খতিয়ানটা দিয়েছে সেটা নিয়ে আদালতে জাজমেন্ট আছে, ওরা ( দুদক) বলছে সঠিক নয়, আদালত বলছে সঠিক। আদালতের জাজমেন্টে আমাকে দিয়েছে। বিষয়টি আমরা আদালতে লড়বো।’

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পরিচালিত তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় বগুড়া সেচ খাল খননের জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাড়াইশালপাড়া মৌজায় ১৬.২৪ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ৮ আগস্ট জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটি ১৬ দশমিক ২৪ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ এল.এ কেস নম্বর ০১/২০১৫-১৬ এর অধীনে বড়াইশালপাড়া মৌজার জে্এল নম্বর-৪০ এর দাগসূচী প্রস্তুত করে বড়াইশাল মৌজার অন্তর্গত ৬৬ ও ৬৭ নম্বর এস.এ খতিয়ান ভুক্ত ১৪৫৯ নম্বর দাগে শূন্য দশমিক ৩৩ একর ও ৩০১ নং এসএ খতিয়ান ভুক্ত ১৪৬৭ নং দাগে শূন্য দশমিক ২৫ একরসহ মোট শুন্য দশমিক ৫৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়।

দুদক বলছে, ২০১৬ সালের ৬ মার্চ উক্ত সম্পত্তি সরকার হুকুম দখলের প্রস্তাব করে ৩ ধারা নোটিশ জারি করে। একই বছরের ২৩ নভেম্বর প্রস্তুতকৃত ফিল্ডবুক অনুযায়ী ১৪৫৯ নং দাগের অধিগ্রহণকৃত শূন্য দশনিক ৩৩ একর জমির মধ্যে মধু চন্দ্র দেবনাথ ও নাড়ুচন্দ্র দেবনাথ-এর নামে ০.২২ একর, সুধীর চন্দ্র রায়ের নামে ০.০৬ একর, অনুকূল চন্দ্র দেবনাথ ও বিনোদ চন্দ্র দেবনাথ-এর নামে ০.০৫ একর জমি এবং ১৪৬৭ নম্বর দাগের অধিগ্রহণকৃত মোট ০.২৫ একর জমির মধ্যে মুকুল চন্দ্র রায় এর নামে ০.০৮ একর, মধু চন্দ্র দেবনাথ ও নাড়ু চন্দ্র দেবনাথ ০.০৯ একর এবং মো. আফতাব আলম এর নামে ০.০৮ একর জমি অনুযায়ী ফিল্ডবুক প্রস্তুত করা হয়। ফিল্ডবুক অনুযায়ী, ওই দাগের মালিকদের নামে গত ২০১৬ সালের ১১ জুলাই ০৬ নম্বর ধারা এবং ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি ৭ ধারার নোটিশ ইস্যু করে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণের জন্য বলা হয়।

পর্যালোচনায় বলছে, ৭ ধারার নোটিশে ১৪৫৯ দাগের মালিকানা ও জমির পরিমাণ মধু চন্দ্র দেবনাথ ও রাজচন্দ্র দেবনাথ-এর নামে ০.২২ একর, সুধীর চন্দ্র রায়ের নামে ০.০৬ একর, অনুকূল চন্দ্র দেবনাথ ও বিনোদ চন্দ্র দেবনাথ এর নামে ০.০৫ একরসহ মোট ০.৩৩ একর জমির মালিকানা উল্লেখ থাকলেও অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র হাফিজ উদ্দিন লালখা ও মোছা হাফিজা খাতুন-এর অনুকূলে ০.১৩ একর এবং সুধীর চন্দ্র দেবনাথ এর অনুকূলে ০.২০ একর জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করার আদেশ প্রদান করা হয়। সেই অনুযায়ী, ১৪৫৯ দাগের ০.১৩ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ আসামি মো. হাফিজ উদ্দিন লালখা এর নামে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২১ টাকার সিসি ভাউচার ও ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর এলএ চেক নম্বর-০০৮০৬৪১ ইস্যু করা হয়। কিন্তু আদেশে উল্লিখিত দলিলসমূহ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি মো. হাফিজ উদ্দিন লালখা ০.০৪ একর জমি পাবেন। যার মূল্য ৬ লাখ ১১ হাজার ৮৩ টাকা। ভুয়া কাগজপত্র ও জাল নথি তৈরি করে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩৭ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করে গ্রহণ করেছেন।

মামলায় বলা হয়, ৭ ধারার নোটিশে ১৪৫৯ দাগের অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকানা ও জমির পরিমাণ মধু চন্দ্র দেবনাথ ও নাড়ুচন্দ্র দেবনাথ এর নামে ০.২২ একর, সুধীর চন্দ্র রায় এর নামে ০.০৬ একর, অনুকূল চন্দ্র দেবনাথ ও বিনোদ চন্দ্র দেবনাথ এর নামে ০.০৫ একনাসহ মোট ০.৩৩ একর জমির মালিকানা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও এলএ কেস নং-০১/২০১৫-২০১৬ এর মিসকেস নম্বর- ১৪/১৭ এর আদেশপত্রে মো. হাফিজ উদ্দিন লালসা ও মোছা. হাফিজা খাতুন এর অনুকূলে ০.১৩ একর এবং সুধীর চন্দ্র দেবনাথ এর অনুকূলে ০.২০ একর জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়। সুতরাং, ৭ ধারার নোটিশ ও আদেশপত্র মোতাবেক ১৪৫৯ দাগে অখিল চন্দ্র-এর নামে কোনো জমি নেই এবং তাকে জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও ২০১৭ সালের ৯ জুলাই আসামি অখিল চন্দ্র-এর নামে ১৪৫৯ দাগের ০.২০ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৭ টাকা এবং ১৪৬০ দাগের ০.০৫ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৪ টাকা মোট ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ২৭৯ টাকা টাকার এলএ চেক নম্বর-০০৮০৬২৫ ইস্যু করা হয় এবং উক্ত কাজকে বৈধ করার জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে না দাবিপত্র ও অঙ্গীকারনামা এলএ কেস নথিতে দাখিল করেন।

অর্থাৎ অখিল চন্দ্রের নামে কোনো জমি না থাকলেও জাল কাগজপত্র তৈরি করে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদক বলছে, ৭ ধারার নোটিশে ১৪৬৭ দাগের অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকানা ও জমির পরিমাণ মুকুল চন্দ্র রায় এর নামে ০.০৮ একর, মধু চন্দ্র দেবনাথ ও নাড়ু চন্দ্র দেবনাথ ০.০৯ একর এবং মো. আফতাব আলম এর নামে ০.০৮ একরসহ মোট ০.২৫ একর জমির মালিকানা উল্লেখ থাকলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, মো. আফতাব আলমের অংশের ০.০৮ একর জমির মালিকানার পরিবর্তে আসামি (৪) মো. শাহাবউদ্দিন এর অনুকূলে ০.০৮ একর জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করার আদেশ প্রদান করা হয়। আদেশপত্র অনুযায়ী, ১৪৬৭ নম্বর দাগে আসামি মো. আফতাব আলম এর নামে জমি না থাকা সত্ত্বেও তার নামে ১৪৬৭ দাগের ০.০৮ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১২ লাখ ২২ হাজার ১৬৬ টাকা এবং ১৪৬০ দাগের ০.০৩ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩১২ টাকাসহ মোট ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৭৯ টাকার এলএ চেক নং-০০৮০৬২৪ ইস্যু করা হয়। ১৪৬৭ নম্বর দাগের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে মো. আফতাব আলমের নামে ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা প্রদান করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এসব অনিয়মকে বৈধতা দিতে ‘না-দাবি পত্র’ ও ‘অঙ্গীকারনামা’ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে সংশ্লিষ্ট এলএ কেস নথিতে সংযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত শরীফ আহম্মেদ চেক প্রস্তুত করেন এবং সুফল চন্দ্র গোলদার তাতে স্বাক্ষর করেন, আর অন্যান্য আসামিরা তা গ্রহণ করেন।

দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রায়হান বকসী বলেন, ‘দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলাকালে আরও কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন