© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতের দ্বারস্থ মীর জাফরের বংশধররা

শেয়ার করুন:
নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতের দ্বারস্থ মীর জাফরের বংশধররা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৫ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
ঐতিহাসিকভাবে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত নবাব পরিবারের উত্তরসূরিদের এবার নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আইনি লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে। ভারতের মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় মীর জাফরের ৩৪৬ জন বংশধর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগের ঐতিহাসিক কেল্লা নিজামাত সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত এই পরিবারের ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও সাম্প্রতিক এক বিশেষ সংশোধনের পর তা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন হিসেবে চিহ্নিত করে মুছে ফেলা হয়।

ফলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

নবাব পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাদের ভারতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। ‘ছোটে নবাব’ হিসেবে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলি মির্জা জানান, তার পরিবারের ৯ জন সদস্যসহ অন্তত শতাধিক নিকটাত্মীয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার ছেলে ও তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০০২ সালের তালিকাতেও তাদের নাম ছিল। হঠাৎ করে কেন তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।

পরিবারটির পক্ষ থেকে আক্ষেপ করে বলা হয়, এক সময় তাদের পূর্বপুরুষরা এই অঞ্চলের বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করতেন, অথচ আজ তাদেরই নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশভাগের সময় তাদের এক পূর্বপুরুষ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভারতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অথচ দীর্ঘকাল পর প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসক আর. অর্জুন জানান, নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

উল্লেখ্য, ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সহায়তায় বাংলার নবাব হয়েছিলেন মীর জাফর। এক সময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশা শাসন করা এই বংশের উত্তরসূরিরা বর্তমানে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইআর/এসএন

মন্তব্য করুন