© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কথা রাখেনি বিসিবি ও প্রশাসন , ঋতুপর্ণা এখনও পাননি প্রতিশ্রুত বাড়ি

শেয়ার করুন:
কথা রাখেনি বিসিবি ও প্রশাসন , ঋতুপর্ণা এখনও পাননি প্রতিশ্রুত বাড়ি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:২২ পিএম | ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
কথা দিয়ে কথা রাখেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ৮ মাস আগে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। কিন্তু এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। জীর্ণ বাড়িতেই বাস করছে ঋতুর পরিবার। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে তাদের। জমি বুঝে পেতে দফতরে দফতরে ঘুরে হতাশ ঋতুর পরিবার।

বাংলাদেশ ফুটবলের পোস্টারগার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। এই ফুটবলকন্যার উঠে আসার পথটা ছিল বন্ধুর। যা নিয়ে গণমাধ্যমে হয়েছে অজস্র প্রতিবেদন। সাফের গন্ডি থেকে বাংলাদেশ দলকে ঋতুপর্না নিয়েছেন এশিয়ান কাপের মঞ্চ। কিন্তু তাতেও তার ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি এতটুকু।

পাহাড় ডিঙিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছিল সময় নিউজ, দেখা যায় বাঁশের বেড়া আর টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে বাস করছেন ঋতুর ক্যানসারজয়ী মা ভূজপতি চাকমা, পারিবারিক কাজে ব্যস্ত বোন। আর ঘরের ভেতর বুনোফুলের মতই জ্বলজ্বল করছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলারের অর্জনগুলো।

ফুটবলে মাঠে ঋতুর অর্জনের কারণেই ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবি এক সভায় ঋতুকে বাড়ি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। যা সে সময় ফলাও করে প্রচার করে দেশের সকল গণমাধ্যম। প্রায় ৮ মাস পার হতে চললো বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি দেখেনি আলোর মুখ। বিসিবি সভাপতি বুলবুল একজন সাবেক ক্রিকেটার হয়েও, ফুটবল দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ।

এর আগে সাফ জয়ের পুরস্কার হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনও ঋতুকে বাড়ি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে অনুযায়ী ঘাগড়া-কাপ্তাই সড়কের পাশে বরাদ্দ দেয়া হয় জমি। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ঘরের জন্য বরাদ্দকৃত জমিটি চারপাশে টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। পাশেই ঝুলছে সাইনবোর্ড। যদিও সেটার অবস্থাও জীর্ণ। অজানা কারণে সেখানে তৈরি হয়নি বাড়িটি। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপও করেছিলেন ঋতু।
স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে এ বিষয়ে প্রতিবেদকের কথা হয়। বাড়ি করে দেবার ঘোষণার কথা তারাও জানেন। ঋতুর দুলাভাই জেলা পরিষদে অসংখ্যবার ঘুরেও কোনো ফল পাননি।

বাড়ির জন্য দেয়া নির্ধারিত জায়গার পাশে একজনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানান, দুই বছর আগে ঋতুপর্ণা চাকমার নামে বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু তাকে সম্ভবত জায়গাটি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তার এক প্রতিবেশী বলেন, যদি ঋতুকে সরকার বাড়ি করে দেয় তবে তারা অনেক খুশি হবেন।

ক্যানসারকে পরাস্ত করে সুস্থ হয়ে ওঠায় সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানালেও প্রতিশ্রুত বাড়ি না হওয়ায় কষ্ট ছিল ঋতুর রত্নগর্ভা মা ভূজপতি চাকমার কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'দেশবাসীর আশীর্বাদে আমি এখন ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়েছি, আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রায় ৪ বচর আগে সরকার ও চেয়ারম্যান এখানে এসে বলেছিল ঋতুকে বাড়ি করে দেবে। এখনও তো দেয়নি, না দিলে কী আর করার আছে। ঋতুর বাড়ির জন্য বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোন ফল না পাওয়ায় হতাশ তার স্বজন। বিসিবি থেকেও কোন যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানায় ঋতুর পরিবার।

এই ফুটবলারের ভগ্নীপতি সুদীপ চাকমা বলেন, 'যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, ওটার ফাইলপত্র নিয়ে রাঙামাটি-ঢাকা দৌড়াদৌড়ি করে আমি নিজেই ক্লান্ত এবং বিরক্ত। বিসিবি যে বাড়ি দেবে বলেছিল, ওটার কোনো আপডেট আমাদের জানায়নি।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল জিতেছে একুশে পদক যার সদস্য ছিলেন ঋতুপর্ণা, আর ব্যক্তিগত ভাবে পেয়েছেন বেগম রোকেয়া পদকও। কিন্তু বহুল প্রতিক্ষীত সেই বাড়ির দেখা আজও পায়নি পাহাড়ের এই স্বর্ণকন্যা।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন