অ্যাপোলো-১৩-এর রেকর্ড ভাঙল নাসার আর্টেমিস-২
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৩ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
মহাকাশে মানব ইতিহাসে নতুন দিগন্ত স্পর্শ করল নাসার আর্টেমিস-টু। অ্যাপোলো-১৩-এর ৫৬ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে চারজন নভোচারী এখন পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্বে অবস্থান করছেন।
চাঁদের দূরবর্তী অংশের ফ্লাইবাইয়ে তারা অজানা ভূপৃষ্ঠের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছেন। এগুলো ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানকে নতুন দিক নির্দেশ করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির প্রধান।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এস.এল.এস রকেটের পিঠে চেপে মহাকাশে উড়াল দেয় আর্টেমিস-২। অ্যাপোলো মিশন শেষ হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা এটি।
ঐতিহাসিক এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী। আন্তর্জাতিক এই দলটির মূল লক্ষ্য হলো ওরিয়ন ক্যাপসুলটি মানব বসবাসের জন্য কতটা উপযুক্ত, তা হাতে-কলমে পরীক্ষা করে দেখা।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ -এর নভোচারীরা ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো ১৩ র রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। সর্বোচ্চ দূরত্ব হবে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার। এটি মানব ইতিহাসে মহাকাশে সর্বাধিক দূরত্ব। ফেরার পথে ওরায়ন ক্যাপসুল ফ্রি রিটার্ন ট্রাজেক্টরিতে পৃথিবীর দিকে আসবেন তারা। যাত্রা প্রায় চার দিন দীর্ঘ হবে।
ফ্লাইবাই চলাকালীন ক্রু চাঁদের দূরবর্তী পৃষ্ঠের অজানা এলাকা পর্যবেক্ষণ করবেন। একটি ছবি দেখায় ওরিয়েন্টাল বেসিন চাঁদের বিশাল একটি গর্ত যা আগে শুধুমাত্র অপ্রাণিত মহাকাশ মিশনের মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল। প্রযুক্তি উন্নতির পরও মানব চোখের পর্যবেক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর কারণ চোখের রিসেপ্টর সংখ্যা কোনো ক্যামেরার তুলনায় অসীম।
কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে ক্রুতে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হলেন ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী নভোচারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম নন-আমেরিকান নভোচারী। ফ্লাইবাইয়ের প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য সকল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে কারণ ক্রু চাঁদের পেছনের অংশ অতিক্রম করবে।
ফ্লাইবাইটি আর্টেমিস-৩ এবং আর্টেমিস-৪-এর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে নোট নেবেন। নাসার প্রধান জারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন এই মিশন ভবিষ্যতের লুনার ল্যান্ডিং ও মহাকাশ গবেষণার পথ সুগম করবে।
এসএ/এসএন