© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেবিদ্বারে ‘ভুয়া ওয়ারেন্টে’ সাংবাদিককে আটক, ১৮ ঘন্টা পর আদালত থেকে ছাড়া

শেয়ার করুন:
দেবিদ্বারে ‘ভুয়া ওয়ারেন্টে’ সাংবাদিককে আটক, ১৮ ঘন্টা পর আদালত থেকে ছাড়া

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল জার্নালিস্ট কুমিল্লা
০৭:৩৩ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ‘ ভুয়া ওয়ারেন্টে’ স্থানীয় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে আটক করে থানা পুলিশ, আটকের ১৮ ঘন্টা পর আদালত থেকে ছাড়া পান ওই ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

বিষয়টি জানাজানির পর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আদালত ও থানা পুলিশ। সোহরাব হোসেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি ও দেবিদ্বার রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাহী সদস্য।

জানাা যায়, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর দেবিদ্বার উপজেলা কার্যালয়ের সামনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান তত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলমসহ নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলছিলেন সাংবাদিক সোহরাব হোসেন। এ সময় দেবিদ্বার থানার এস আই ভবতোষ কান্তি দে এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে কুমিল্লার সিআর মামলা নাম্বার-৫৭৩/২০২৫ এর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তখন ওয়ারেন্টের বিষয়ে সে বিস্তারিত জানতে চাইলেও পুলিশ তার কথায় কর্নপাত করেনি।

পরে থানায় প্রায় ১৮ ঘন্টা আটকে রাখার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লায় আদালতে প্রেরণ করলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন আদালত থেকে জানানো হয় যে ওয়ারেন্ট থানায় পাঠানো হয়েছিল তা সঠিক ছিল না।

সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, দেবিদ্বার উপজেলার উটখারা মাজারের জমি অবৈধভাবে দখলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছে। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মামলায় জামিন থাকার পরও সোমবার বিকালে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জামিনের বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা আমার কোন কথা না শুনে আমাকে থানায় প্রায় ১৮ ঘন্টা আটকে রেখে সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে প্রেরণ করেন।

আদালতে যাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আমার কাগজপত্র দেখে আমার নামে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় আমাকে ছেড়ে দেন। ভুয়া ওয়ারেন্টের কারনে আমার সন্মানহানী হয়ে, এ ঘটনায় আমি বিচার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতেই চলছে বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির মহোৎসব। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষের নামে পাঠানো হচ্ছে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা। কতিপয় পুলিশ ও আইনজীবী এবং আদালতের অসাধু কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমনই এক সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

এই চক্রের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। 

দেবিদ্বার থানার এসআই ভবতোষ কান্তি দে বলেন, আদালত থেকে ওয়ারেন্ট থাকায় আমরা সোহরাব হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠাই। কিন্ত আদালতের ওয়ারেন্টের বিষয়টি তাৎক্ষনিভাবে যাচাই করার আমাদের সুযোগ নেই। পরে জানতে পেরেছি ওয়ারেন্টটি সঠিক ছিল না। 

এ ব্যাপারে কুমিল্লার সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতের পেশকার মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, সোহরাব হোসেন এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি (ওয়ারেন্ট) ভুলবশত থানায় চলে গেছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এটা ভুলবশত হয়েছে।

এসএন 

মন্তব্য করুন