জামিনে মুক্ত হয়ে কি বললেন জামায়াতের সেই নারী কর্মী
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৫ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
ভোলায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা (৩৭) জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠুর আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
এ সময় সাওদার পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই লড়েন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট ফরিদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, রহমাতুল্লাহ সেলিমসহ আইনজীবীদের একটি দল।
জামিনে মুক্ত হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিবি সাওদা।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে। তারা যদি জনগণের না হয় তাহলে আমরা সে সরকার দিয়ে কী করবো? সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে আমার অসুস্থ সন্তানকে রেখে বহু কষ্টে দুই রাত জেলখানায় কাটাতে হয়েছে এবং অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমরা চাই সামনের দিনগুলোতে অন্তত আমাদেরকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক। আমরা যেন আমাদের মতামত তুলে ধরতে পারি এটাই চাই।
বিবি সাওদা বলেন, আমি দেশের একটি গণমাধ্যম ও জনগণকে ভালোবেসেই ফেসবুকে পোস্ট করেছি। এখন কথা বলার অপরাধে যদি জনে জনে ধরে নিয়ে জেলে ভরে দেয়, তাহলে সামনের দিকে কেউ কথা বলবে না। তাহলে কী আমরা আগামী দিনেও জেলের মধ্যেই থাকবো? ২০২৪- এর গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি সবাই চুপ করে থাকি তাহলে লাভ হল কী? অন্তত আমাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে না নেওয়া হোক।
এর আগে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি জানাজানির পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। যা গড়ায় জাতীয় সংসদ পর্যন্ত। অতিদ্রুত তাকে মুক্তির দাবি জানানো হয় সবখান থেকেই। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে তাকে বরণ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
ভোলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাছির উদ্দিন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিজ্ঞ আদালত বিবি সাওদাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
এদিকে নিজেদের কর্মী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ।
তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সাওদাকে গ্রেপ্তার করে সরকার সারাদেশের নারী-পুরুষের মধ্যে একটি ভীতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। যাতে করে সরকারের বিরুদ্ধে কেউ সমালোচনা না করেন এবং যারাই সমালোচনা করবে তাদের টুঁটি এভাবে (সাওদার মতো) চেপে ধরবে। আমরা মনে করি সরকার যে উদ্যোগ নিতে চেয়েছিল সেটি ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আইনগতভাবে এগিয়েছি এবং আদালত তাকে জামিন দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমি রোডের ক্ষণিকালয় নামে নিজ বাড়ি থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই একই এলাকার আব্দুল হালিম বাবুলের স্ত্রী। পরবর্তীতে সোমবার (৬ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডিতে সরকার রাজনীতি, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ভোলা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (গোয়েন্দা শাখা) এবং তার মোবাইলটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা স্বীকার করেন তিনি। তিনি সাইবার সুরক্ষা নেট অধ্যাদেশ ২০২৫ এ শাস্তি যোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত। এছাড়া তার মোবাইল ফোন ফেসবুক পোস্টসমূহ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ তাৎক্ষণিক সম্ভব না হওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ভোলার পুলিশ সুপার জানান, সাওদার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করে অপরাধের ধরণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে আলামতের ফরেনসিক রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতকে বিস্তারিত প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।
জানা গেছে, গ্রেপ্তারের আগে সর্বশেষ বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে (Sawoda Sumi) দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তারা তো অনুমতি দিছে, তাহলে দুই তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?। তার অন্যান্য পোস্টেও জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে এবং যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
এসএন