© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাঁদপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

শেয়ার করুন:
চাঁদপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৫ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
চাঁদপুরের মতলবে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন এক তরুণী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার উত্তরে দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় দুর্গাপুর গ্রামে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

প্রেমিক সিয়াম হোসেন মিয়াজী উপজেলার বড় দুর্গাপুর মিয়াজী বাড়ির ছেলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রেমিক সিয়াম হোসেন মিয়াজীর বসতঘরের সামনে একটি চেয়ারে বসে অনশন করছেন প্রেমিকা। তবে সেই বসতঘরের গেটে তালা ঝুলানো রয়েছে। ছেলের বাবা আমির হোসেন মিয়াজি মালয়েশিয়া প্রবাসী। তবে ঘটনার পর মা খালেদা বেগম বাড়ি ছেড়ে অন্য সন্তানদের নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক সিয়ামও পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত রোববার বেলা ১১টা থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী। তিনি জানান, প্রায় চার বছর আগে একই স্কুলে পড়ার সময় সিয়ামের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ভুক্তভোগী এই তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। গত মাসে কয়েকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে সময় কাটান বলেও দাবি করেন তিনি। সর্বশেষ ঈদের দিন তারা একসঙ্গে ঘুরতে যান এবং পরদিন চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় সময় কাটানোর পর সিয়ামের এক বন্ধুর বাড়িতে রাত যাপন করেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতে আমি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছি। আমার সম্মান রক্ষার জন্য তার সঙ্গে বিয়ে ছাড়া আর কোনো পথ নেই। সিয়াম ও তার পরিবার এ ঘটনার জন্য দায়ী।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ওই তরুণী বলেন, পরিকল্পিতভাবে তিনি সিয়ামের মাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মেয়েটি।

এ ঘটনায় ওই তরুণীর মা জোসনা বেগম মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে। এখন বিয়ে না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিরাজ বলেন, ‘ছেলেটি আমার বাড়ির। মেয়েটিও আমাদের গ্রামের। তাদের বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় এখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।’

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুতরাং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন