লিভারপুলের সামনে বড় বাধা পিএসজি
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫৩ এএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লিগে লিভারপুলের সামনে বড় পরীক্ষা। অল রেডদের প্রতিপক্ষ প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এফএ কাপে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ গোলের শোচনীয় পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে প্যারিসে পা রাখে লিভারপুল। টানা ব্যর্থতায় দলটির বর্তমান কোচ আর্নে স্লট এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে লিভারপুল, যা ২০১৪-১৫ মৌসুমের পর দলটির সবচেয়ে বাজে রেকর্ড। শেষ পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পাওয়া লিভারপুলের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সবশেষ ম্যাচে গ্যালাতাসারের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই পরাজয় তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

অন্যদিকে ঘরোয়া লিগে আধিপত্য ফিরে পেয়েছে পিএসজি। ফরাসি লিগ ওয়ানে লেন্সের চ্যালেঞ্জ সামলে ৪ পয়েন্টের ব্যবধানে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে লুইস এনরিকের দল। সবশেষ ম্যাচে উসমান ডেম্বেলের জোড়া গোলে তুলুজকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে তারা। রেকর্ডও বলছে পিএসজির পক্ষে; গত চারবারই তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে এবং ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড তাদের দখলে।
চোটজর্জর লিভারপুল শিবিরে আশার আলো হয়ে ফিরছেন মোহাম্মদ সালাহ, ফেদেরিকো কিয়েসা এবং জেরেমি ফ্রিম্পং। তবে ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকছেন অ্যালিসন বেকার, কনর ব্র্যাডলি এবং এনডোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা।
অন্যদিকে পিএসজি শিবিরেও রয়েছে চোটের হানা। ফরাসি তারকা ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ফাবিয়ান রুইজ ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকছেন। তবে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস এবং অধিনায়ক মার্কুইনহোসদের ফেরার খবরে স্বস্তিতে রয়েছে এনরিকের দল।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সমতা থাকলেও (উভয় দলের ৩টি করে জয়), বর্তমান ফর্ম ও ঘরের মাঠের সুবিধা বিবেচনায় বুধবারের ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে প্যারিসের ক্লাবটি। লিভারপুল কি পারবে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে, নাকি পিএসজির দাপটে আরও একবার চূর্ণ হবে অল রেডদের স্বপ্ন তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চেনা প্রতিপক্ষ আরেক স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। তবে অতীত পরিসংখ্যান কাতালানদের কিছুটা চিন্তায় রাখতে পারে।
এর আগে ২০১৩-১৪ এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার শেষ আটে অ্যাথলেটিকোর কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল বার্সেলোনাকে। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দুই দলের শেষ চার দেখায় বার্সার জয় মাত্র একটিতে। তবে বর্তমান ফর্ম বলছে ভিন্ন কথা। গত শনিবার লা লিগার লড়াইয়ে অ্যাথলেটিকোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে হানসি ফ্লিকের শিষ্যরা।
লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এখন দারুণ ছন্দে আছে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। গত দুই মাস ধরে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থাকা বার্সেলোনার প্রধান অস্ত্র তাদের আক্রমণভাগ, যেখানে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল আরও একটি দুর্দান্ত মৌসুম পার করছেন।
অন্যদিকে দিয়েগো সিমিওনের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা তিন ম্যাচ হেরে এই ম্যাচে নামছে তারা। লা লিগায় বর্তমানে চতুর্থ স্থানে থাকা দলটির মূল লক্ষ্য এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে আসন্ন কোপা দেল রে ফাইনাল।
শেষ ষোলোতে টটেনহ্যামের কাছে দ্বিতীয় লেগে ৩-২ গোলে হারলেও দুই লেগে মিলিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ আট নিশ্চিত করে তারা। ২০১৭ সালের পর আর সেমিফাইনালে পা রাখতে না পারা অ্যাথলেটিকোর জন্য এবারের আসরটি বড় সুযোগ।
চোট সমস্যা দুই শিবিরেই কিছুটা প্রভাব ফেলছে। বার্সেলোনা এই ম্যাচে পাচ্ছে না আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, রাফিনহা, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং এবং মার্ক বার্নালকে। তবে সুখবর হলো, গত ম্যাচে চোট পাওয়া রোনাল্ড আরাউহো ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। আতলেতিকো শিবিরে সুখবর হয়ে আসছে ইয়ান ওবলাক এবং রদ্রিগো মেন্ডোজার অনুশীলনে ফেরা। তবে পাবলো ব্যারিওস ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকছেন এবং হোসে জিমেনেজকে নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় বার্সার বিপক্ষে আগের সাফল্যের স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে চাইবে ‘রোজিব্লাঙ্কোস’রা।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং লিভারপুল এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলই তিনটি করে জয় পেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে শেষ ছয় ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে পিএসজি (৫ জয় ও ১ ড্র)। গত মৌসুমের শুরু থেকে ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে খেলা চারটি নকআউট পর্বের প্রতিটিতেই তারা জিতে পরের রাউন্ডে গেছে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত পাঁচটি আসরের মধ্যে চারবারই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে এর মধ্যে কেবল ২০২২-২৩ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজেদের শেষ সাতটি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে পিএসজি (৬ জয় ও ১ ড্র)। এই ম্যাচে হার এড়াতে পারলে তারা ফরাসি ক্লাব হিসেবে লিঁওর (এপ্রিল ২০০৪ - মার্চ ২০০৬) গড়া টানা আট ম্যাচ অপরাজিত থাকার দীর্ঘতম রেকর্ডে ভাগ বসাবে।
আরআই/টিকে