© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাতেও সরকারি অফিস খোলা রাখা নিয়ে গণঅধিকার ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন:
রাতেও সরকারি অফিস খোলা রাখা নিয়ে গণঅধিকার ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৮ এএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় রাতেও খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে রাণীশংকৈল ছাত্রদলের কলেজ কমিটির সভাপতি আতিক এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদ মামুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অফিস খোলা রেখে কাজ চলছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নের অফিসে। পরে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অফিস খোলা রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার বিষয়টি জানতে কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী পিআইও কার্যালয়ে যান।

এ সময় পিআইও এবং উপস্থিত নেতাদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। এদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের একটি কক্ষে আটকে রাখার পাল্টা অভিযোগও ওঠে।

একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতা মামুন ও তার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে পাল্টা অভিযোগ ওঠে। সেখানে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস কেন খোলা রাখা হয়েছে জানতে চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। পরে আমাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়।’

এ বিষয়ে পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকারের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কারোই বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, এতে কয়েকজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে, প্রকল্পের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে দিনদুপুরে লোকজনের সামনে এক ইউপি সদস্যকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুতে ফেলার’ হুমকি দেয় পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকার। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আক্কাস আলী তার বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় অভিযোগ দেন।

সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিস কক্ষে ধূমপানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগেও তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। সেই মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় দুই সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সুজন ও ফারুক আহম্মেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন