৯ হাজার কোটির দুর্নীতিদুদকের সাবেক কমিশনার জহুরুলসহ ৬ কুশীলবকে তলব
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৮ এএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের মামলার আসামি দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক ও বিটিআরসির সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পৃথক পৃথক পাঠানো তলবি নোটিশে তাদেরকে আগামী ৯ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান সই করা চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
যাদেরকে তলব করা হয়েছে তারা হলেন- বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.),সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক কমিশনার ও দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের এবং মো. আমিনুল হাসান। এরা সবাই দুদক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক ও বিটিআরসির সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। ঘটনার সময় জহুরুল বিটিআরসির কমিশনার ও পরে চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দুদকের পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদন ছাড়াই পরীক্ষামূলক সময়ের কল রেট কমিয়ে ০.০৩ ডলার থেকে ০.০১৫ ডলার করে এবং সরকারের রেভিনিউ শেয়ার ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ নামিয়ে আনে। একই সঙ্গে আইজিডব্লিউ অপারেটরের শেয়ার ১৩.২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। যার মাধ্যমে রেভিনিউ শেয়ার কমানোর ক্ষতি ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, কম রেটে কল আনায় ক্ষতি ২ হাজার ৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা না আনায় ক্ষতি ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি ১ লাখ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের মোট ক্ষতি ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯/৪১৮, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২১ সালের ১০ মার্চ কমিশনার হিসাবে মো. জহুরুল হক দুর্নীতি দমন কমিশনে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। ওইদিন দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার আছিয়া খাতুনও পদত্যাগ করেন।
টিজে/এসএন