© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুদ্ধবিরতির পর সৌদির একমাত্র সচল তেলের পাইপলাইনে ইরানের হামলা

শেয়ার করুন:
যুদ্ধবিরতির পর সৌদির একমাত্র সচল তেলের পাইপলাইনে ইরানের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:১২ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের একমাত্র সচল তেল রপ্তানি রুট ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’-এ বুধবার আঘাত হেনেছে ইরান।

ইরান যুদ্ধ স্থগিত করতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’- এ হামলা চালিয়েছে ইরান।

শিল্প খাতের একটি সূত্রের বরাতে বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের একমাত্র সচল তেল রপ্তানি এই রুটটিতে আঘাত হানল ইরান।

শিল্পখাতের ওই সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বর্তমানে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র মাধ্যম।

ইরানের হামলায় এই পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেলের খনিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠাতে এই পাইপলাইনটি ব্যবহার করছিল।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আটকা পড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল।

সূত্রটি জানায়, ইরানের হামলার ফলে পাইপলাইনের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।

এটি বর্তমান জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকট বলে অভিহিত করেছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা পুরো অঞ্চল জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এর মধ্যে ইয়ানবুতে অবস্থিত ‘মার্কিন কোম্পানিগুলোর তেল স্থাপনা’ও রয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। হামলাটি ঠিক কখন হয়েছে এবং পাইপলাইনের কার্যক্রমে এর প্রভাব কতটা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

সৌদি আরব সরকারের যোগাযোগ দপ্তর এবং পাইপলাইন পরিচালনাকারী সংস্থা সৌদি আরামকো এ বিষয়ে রয়টার্সের ইমেইলের কোনও জবাব দেয়নি।

সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকো এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ক্ষমতার মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেশের অভ্যন্তরীন প্রয়োজনে ব্যবহার করে এবং বাকি ৫০ লাখ ব্যারেল রপ্তানির জন্য রাখা হয়।

শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ থেকে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছিল, যা এর সক্ষমতার প্রায় কাছাকাছি।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন