© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজে ক্রিপ্টোতে টোল নেবে ইরান, লাগবে বিশেষ ছাড়পত্র

শেয়ার করুন:
হরমুজে ক্রিপ্টোতে টোল নেবে ইরান, লাগবে বিশেষ ছাড়পত্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩২ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া তেলবাহী কোনো ট্যাঙ্কার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়া অনুমতি পাওয়া নৌযানকে বড় অঙ্কের টোল পরিশোধ করতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে।

গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সব তেলবাহী জাহাজের উদ্দেশে বুধবার (৮ এপ্রিল) রেডিও বার্তা দিয়েছে ইরান সরকার। এতে বলা হয়, ‘কোনো জাহাজ অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে ধ্বংস করা হবে।’

ইসলামিক রিপাবলিকের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বলা হয়, হরমুজ ব্যবহার করার জন্য শিপিং কম্পানিগুলোকে বিপুল পরিমাণ টোল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করতে হবে। জাহাজের প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য এক ডলার করে টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেইনি দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ যেন অস্ত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রণালি দিয়ে কী ঢুকছে, অথবা বের হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা ইরানের জন্য প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘সব কিছুই পার হতে পারবে, তবে প্রতিটি জাহাজের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হবে। এক্ষেত্রে ইরান কোনো তাড়াহুড়া করবে না।’

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজকে প্রথমে তাদের কার্গো সম্পর্কে ইরান কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল করতে হবে। এরপর দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানাবে কত পরিমাণ টোল ডিজিটাল মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে।

হোসেইনি জানান, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য টোল হবে এক ডলার, তবে খালি ট্যাঙ্কারগুলো বিনা শুল্কে পার হতে পারবে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তেহরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলের কাছাকাছি উত্তর দিকের রুট ব্যবহারে বাধ্য করবে। পশ্চিমা বা উপসাগরীয় দেশ-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারগুলো এই ঝুঁকি নিতে রাজি হবে কি না সেটি পরিষ্কার নয়।

হামিদ হোসেইনি বলেন, ‘ইমেইল পৌঁছানোর পর এবং ইরানি মূল্যায়ন শেষ হওয়ামাত্র জাহাজগুলোকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিটকয়েনে টোলের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হবে। কোনো ধরনের পশ্চিমা ট্র্যাকিং বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সংশয় তৈরি করেছে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে স্পষ্ট করে বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নির্ভর করছে ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে রাজি কি না তার ওপরে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই জলপথে তেহরান-সংশ্লিষ্ট দুটি ছাড়া আর কোনো ট্যাঙ্কারের চলাচল দেখা যায়নি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং লাইন মার্স্ক জানায়, তারা ইরান সরকারের শর্ত সম্পর্ক পরিষ্কার হওয়ার চেষ্টা করছে।

কম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘যুদ্ধবিরতি কিছু চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে এখনো পূর্ণ নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। এ জন্য আপাতত তারা কার্গো পরিবহনে ‘সতর্ক অবস্থান’ বজায় রাখবে।

ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের শিপিং বিশ্লেষক লার্স জেনসেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘প্রযুক্তিগতভাবে জাহাজগুলো এখনই নোঙর তুলে চলতে শুরু করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলে আগামী কয়েক দিনে আমরা দেখব অনেক জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু খুব বেশি জাহাজ ভেতরে ঢুকবে না।’

এদিকে সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ ভাষ্যকার আলি শিহাবি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে প্রধান অগ্রাধিকার হতে হবে বাধাহীন চলাচল। কারণ সৌদি আরব বৈশ্বিক বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার চায়।’

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝে বুধবারও সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়েছে। এই পাইপলাইন দিয়ে দেশটি লোহিত সাগর তীরের বন্দরে তেল সঞ্চালন হয়ে থাকে। 

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন