লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলার নিন্দা জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৪ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে লেবাননের পরিস্থিতিতে ‘ভয়াবহ’ অভিহিত করে ভলকার টুর্ক বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন রক্তপাত অবিশ্বাস্য। এটি বর্তমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো—যেমন আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার পার্থক্য নিরূপণ, হামলার যৌক্তিকতা ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন—অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, এই নীতিগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না এবং এগুলো সব সময় শ্রদ্ধা করা উচিত।’
পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে।
কিন্তু তা মানতে চাইছে না ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার এটিকে 'পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ' বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার আক্রমণাত্মক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি সাফ জানান, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি হলেও হিজবুল্লাহর ওপর হামলা থামবে না। নেতানিয়াহুর সুরেই কথা বলছে ওয়াশিংটন।
এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। তবে ভবিষ্যতে লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
একই সুরে কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রস্তাবিত অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে লেবানন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয় বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, লেবানন ইস্যুতে ইরান যদি সমঝোতা থেকে সরে আসে, তবে তা হবে চরম বোকামি।
এদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ। একইসঙ্গে নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, শত্রুরা সামান্য ভুল করলে তারা পূর্ণমাত্রার প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয় পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নয়তো ইসরাইলের মাধ্যমে প্রক্সি যুদ্ধ, যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে।
টিজে/এসএন