© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেশে জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

শেয়ার করুন:
দেশে জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৯ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেল আমদানি গেল বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এছাড়া একই সময়ে এলএনজি-এলপিজি আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এরপরও দেশের বাজারে জ্বালানি নিয়ে কমছে না অস্থিরতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও জনমনে আতঙ্ক আর সমন্বয়হীনতার কারণেই সংকট কাটছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের মধ্যেই জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। গেল মার্চ মাসে ৩ লাখ ২৭ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে ভিড়েছে ১১টি জাহাজ। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনে এসেছে আরও ২২ হাজার টন ডিজেল।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, চলতি বছর প্রথম তিন মাসে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামও আমদানি হয়েছে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের শরীফ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘২০২৫ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি–মার্চ মাসে প্রায় ১০ লাখ টনের মতো আমদানি হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি–মার্চ এই তিন মাসে আমদানি হয়েছে ২৫ লাখ টনের মতো।’

এদিকে মার্চে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে মোট ৪২টি জাহাজ। এর মধ্যে ৯টি এলএনজি, ১৪টি এলপিজি, গ্যাস অয়েল ১০টি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির ৯টি জাহাজ রয়েছে। মার্চের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রওনা দেয়া জাহাজগুলো এলেও, পরবর্তীতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘লাস্ট কিছুদিনধরে যে সমস্ত জাহাজ আসছে সেগুলো আমাদের পূর্বদিক থেকে আসছে। হয়তো বা বিকল্প জ্বালানির যে উৎস আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সিকিউর করার চেষ্টা চলছে হয়তোবা এটার একটা বহিঃপ্রকাশ এখানে হচ্ছে।’


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতি নয় বরং দাম বাড়ার আশঙ্কা আর মজুত করার প্রবণতাই এই কৃত্রিম সংকটের মূল কারণ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, ‘কিছু মজুতদারতারা তেল মজুত করছে। যেহেতু তেলের দাম এখানে বাড়েনি, তারা মনে করছে ভবিষ্যতে তেলের সংকট হবে এবং দামও বাড়বে। এখানেই জটিলতাটা। এটা আমাদের কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়নি।’

সংকট সামাল দিতে কেবল আমদানি বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক সরবরাহ কৌশল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন