এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই, আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল: আবু সাঈদের বাবা
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫০ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা। তার বাবা মকবুল হোসেন বলেছেন, বিচারে মাত্র দুইজনের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক অপরাধীদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। তো অনেক আসামি তো ছাড়ে-আড়ে গেছে, যারা অপরাধী। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। কড়াভাবে সাজা দেওয়া উচিত ছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরে আবু সাঈদের কবরের পাশে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
আবু সাঈদের বাবা বলেন, মাত্র দু'জন আসামিকে ফাঁসি দিয়ে মূল দোষী ও হত্যার নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশ দাতাদের সামান্য শাস্তি দেয়া হয়েছে। আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আবু সাঈদের সাথে সবচেয়ে বেশি খারাপ আচরণ করেছে এবং হত্যার পেছনে জড়িত। তাকে মাত্র ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান , সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায়।
বাকি সাজা প্রাপ্তরা হলেন, বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান ও শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল, বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ ও রংপুরের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানের ১০ বছরের কারাদণ্ড। আর ডা. সারোয়াত হোসেন, সাবেক এডিসি আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড।
অন্যদিকে, বেরোবি ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দফতর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড।
এবি/টিএ