© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ: অবশেষে ৪৮ বছর পর পরিশোধ করলেন টাকা

শেয়ার করুন:
বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ: অবশেষে ৪৮ বছর পর পরিশোধ করলেন টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৬ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
১৯৭৮ সালে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই ট্রেনে ভ্রমণ করতেন মো. মফিজুল ইসলাম (৬০) নামে এক যুবক। আসা যাওয়া পুরোটাই বিনা টিকিটে। হঠাৎ অর্ধশতাব্দী পর তার অনুশোচনা শুরু হয় বিনা টিকিটে ভ্রমণ নিয়ে। তিনি বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার সেই টাকা পরিশোধ করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে উপায় খুঁজছিলেন। অবশেষে গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে সেই রেল ভ্রমণের ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দীর্ঘ দিনের অনুশোচনা দূর করলেন মফিজুল।

তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান বেপারীর ছেলে। বর্তমানে বেপারীবাড়ী ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.) মহিলা মাদরাসা নামে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করছেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে তাকে বিষয়টি পীড়া দিচ্ছিল। এখন রেলের টাকা পরিশোধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

মফিজুল ইসলাম জানান, ১৯৭৬ সালের দিকে তিনি জীবিকার তাগিদে ব্যবসা শুরু করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় শ্রীপুরে উৎপাদিত কাঁঠাল ট্রেনের ছাদে পরিবহন করে নিয়ে তিনি ঢাকায় বিক্রি করতেন। ঢাকায় যাতায়াতের জন্য তিনি কোনো টিকিট কেটে দায়িত্বরতদের ১ টাকা দিয়ে দিতেন। এভাবেই বছর কয়েক নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। সেই টাকাতো সরকারের কোষাগারে জমা হতো না। অর্ধশতাব্দী পর মফিজুল ইসলাম এমন চিন্তা থেকে অনুভব করেন। সেই সময় দেওয়া ১ টাকা দায়িত্বরতদের পকেটে গেলেও রেলওয়ে তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২ থেকে ৩ বছর টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করেছি। দায়িত্বরতদের হাতে টাকা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তো আমার কাছে টাকা পায়। অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম। কিন্তু কত টাকা পরিশোধ করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। পরে নিজে নিজেই হিসেব কষে ২০ হাজার টাকার কম হবে বলে ধারণা করি। সবশেষ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন