© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

স্থানীয় সরকার বিল পাস না হলে আ. লীগের মেয়রদের বসার সুযোগ দিতে হবে: সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
স্থানীয় সরকার বিল পাস না হলে আ. লীগের মেয়রদের বসার সুযোগ দিতে হবে: সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৩ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস না হলে আবার দলীয় প্রতীকে ফিরে যেতে হবে এবং বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের মেয়র-কাউন্সিলরদের সাত দিনের মধ্যে চেয়ারে বসার সুযোগ করে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ উপস্থাপনের পর বিলটির বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। এরপর প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আমার সহকর্মী বন্ধু এই বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, এমন কী বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যার কারণে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে? প্রথমত, এই বিলটি এখনো পাস হয়নি, এটিই বিশেষ পরিস্থিতি। আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত যেহেতু নির্বাচন দেওয়া যাচ্ছে না, তাই আমরা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছি।

দ্বিতীয়ত, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এজাজ আহমেদকে কেন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অথচ কী বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অবমাননা করে ইশরাক হোসেনকে (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী) শপথ করানো হয়নি? তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে তার গেজেটও হয়েছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে শপথের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাকে শপথ করানো হয়নি। আজ বিরোধী দলের চিফ হুইপ সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

তিনি বলেন, আজকে তারা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করছেন। এই আইনটি যদি পাস না হয়, তবে পুরাতন জুলুমবাজরা আবার চেয়ারে ফিরে আসবে। এই আইনে বলা আছে যে, ধানের শীষসহ জাতীয় কোনো দলীয় প্রতীকে আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। আইনটি পাস না হলে আমাদের আবার দলীয় প্রতীকে ফিরে যেতে হবে। তখন বিনা ভোটে যারা আওয়ামী লীগের মেয়র-কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিল, তাদের সাত দিনের মধ্যে ওই চেয়ারে বসার সুযোগ করে দিতে হবে।

বগুড়া ও শেরপুরের দুটি উপনির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার বন্ধু তার বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন যে সেখানে নাকি ভোট কারচুপি হয়েছে। আমি বলতে চাই, বিকাল চারটার পরে যখন আপনারা নিশ্চিত হয়েছেন যে পরাজয় নিশ্চিত, তখন বুঝলেন ভোট কারচুপি হয়েছে? এরপর আপনারা সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেন।

তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে নির্বাচন বয়কটের পুরনো রেওয়াজ থেকে সরে আসুন। যেহেতু এই বিএনপি সরকারের সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে। ৪৫ দিনের মাথায় এটি ছিল বিএনপির একটি টেস্ট ম্যাচ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই টেস্ট ম্যাচের ফলাফল যখন বাংলাদেশের জনগণ ধানের শীষের পক্ষে দিচ্ছিল, তখন তারা বিকাল চারটার পরে নির্বাচন বর্জন করে কী প্রমাণ করতে চাইছে, তা আমার জানা নেই। 

এসএস/টিকে

মন্তব্য করুন