ক্যারিয়ার লম্বা করতে টেস্ট কম খেলবেন রশিদ
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩৫ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
আফগানিস্তানের হয়ে দীর্ঘদিন খেলতে চান রশিদ খান। এজন্য টেস্ট ক্রিকেটে নিজের উপস্থিতি কমানোর কথা ভাবছেন তিনি। তারকা এই লেগ স্পিনার বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলতে চান। চিকিৎসকের পরামর্শেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত ভাবছেন।
২০২৩ সালে পিঠে চোট পাওয়ার পর চিকিৎসকরা রশিদকে দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন। তবে সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবার টেস্ট খেলেন। এই ফরম্যাটে সবশেষ খেলেছেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বুলাওয়ায়োর সেই ম্যাচে তিনি দুই ইনিংসে ৫৫ ওভার বল করেন। স্বাগতিকদের বিপক্ষে মোট সাত উইকেট নেন এবং ম্যাচসেরা হন।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে রশিদ জানান, অতীতে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার ফলেই তাকে এখন সতর্ক হতে হচ্ছে।
তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে খেলা একটি টেস্ট ম্যাচের কথা স্মৃতিচারণ করে বলেন, যেখানে তিনি একাই দুই ইনিংসে মোট ৫৫ ওভার (বা প্রায় ৬৭ ওভার) বল করেছিলেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করেই তিনি সেই ম্যাচে খেলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, যদি আমি দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলতে চাই, তাহলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু আমি তখনও খেলেছি। পরে যখন তিনি জানলেন আমি এত ওভার বল করেছি, তিনি বিস্মিত হন এবং বলেন—এভাবে নিজের ক্ষতি করা ঠিক না।
২৭ বছর বয়সী রশিদ খানের টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৮ সালে। এই ফরম্যাটে তিনি মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০.৪৪ গড়ে নিয়েছেন ৪৫ উইকেট।
পিঠের চোট ধরা পড়ে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে। তখন অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি, যাতে দেশের হয়ে খেলতে পারেন। এতে তার বোলিংয়ের ধার কিছুটা কমে যায়। পাশাপাশি তাকে তীব্র ব্যথাও সহ্য করতে হয়।
এখন ক্যারিয়ার নিয়ে নতুনভাবে ভাবছেন রশিদ। আগামী জুনে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি না খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
টেস্ট ফরম্যাট খেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একটি খেলেছি। তাই এখন একটু ধীরে এগোব। নিজেকে (২০২৭ ওয়ানডে) বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করতে চাই। ধরুন ওই টেস্ট ম্যাচে যদি পিঠে আবার চোট পাই। আমি তো আর ১০০টি টেস্ট খেলতে পারব না। যদি বছরে একটি করে টেস্ট খেলি, আমি তো আর একশ বছর খেলতে পারব না। আর টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে এখন আমার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই।

বর্তমানে আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে খেলছেন রশিদ।
নিজের ক্যারিয়ার প্ল্যান নিয়ে রশিদ বলেন, হ্যাঁ, ওয়ানডে ক্রিকেট আমি উপভোগ করি। আফগানিস্তানের হয়ে দীর্ঘদিন ওয়ানডে খেলার মতো অবস্থায় আছি। তবে সতর্ক থাকতে হবে, কতগুলো ম্যাচ খেলছি এবং নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছি কি-না। লম্বা সময় ধরে খেলতে চাইলে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া আমার জন্য কঠিন। হ্যাঁ, বছরে একটি টেস্ট খেলা যায়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি খেলা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না, তবে আমি চেষ্টা করব। একটির বেশি খেলা সম্ভব যদি আমাকে মাত্র ২০–২৫ ওভার বল করতে হয়। কিন্তু দলে থাকলে তো আমাকে সারা দিন বল করতে হবে। গত দুটি টেস্ট ম্যাচে তাকালে দেখা যাবে আমি ১৬৭ (১৫৪.২) ওভার বল করেছি, যা আমার মতে অনেক বেশি।
টিজে/এসএন