© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পাবনায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে নোটিশ জারি, না মানলেই শাস্তি

শেয়ার করুন:
পাবনায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে নোটিশ জারি, না মানলেই শাস্তি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫০ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ ক্যাম্পাসে টাঙানো হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। 

গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই নোটিশে বলা হয়, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে এবং হাত-পায়ের নখ কেটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। নোটিশে চারদিক থেকে তোলা একটি নির্দিষ্ট ধরনের চুল কাটিংয়ের ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যা ‘আর্মি কাট’ এর মতো।

নির্দেশনায় আরো উল্লেখ করা হয়, এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

নোটিশের নিচে উল্লেখ করা হয়েছে, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশক্রমেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, কেউ এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “‘শৃঙ্খলা প্রয়োজন, তবে চুলের কাটিং নিয়ে শাস্তির হুমকি কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা দরকার।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সমতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মশৃঙ্খলার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত।

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চুল ছোট রাখা, নিয়মিত নখ কাটা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা স্বাভাবিক বিষয়। এটিকে নেতিবাচক না দেখে ইতিবাচক হিসেবে নেওয়া উচিত।’



ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন